অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না গোয়ালন্দের কলেজ ছাত্র রানার

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৮, ১৭:৪০
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড কছিমদ্দিন সরদার পাড়ার শাহজাহান শেখের ছেলে নিলয় আহম্মেদ রানা (২০)। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে নিলয় রানা সবার ছোট। ফরিদপুর টেকনিক্যাল কলেজের চুড়ান্ত বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র। ঈদের দিন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পায়ের রগ ছিঁড়ে যাওয়াসহ গুরুতর আহত হয়ে প্রায় এক মাস শয্যাশায়ী। বাবা শাহজাহান শেখ দৌলতদিয়া ঘাটে সামান্য বেতনে পরিবহনের তত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন। অর্থের অভাবে রানার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
 
নিলয় রানা সংসারের অভাব মেটাতে প্রতিদিন ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা বিক্রি করতো। এ থেকে তার যে আয় হতো তাই দিয়ে নিজের কোনমতো পড়াশুনার খরচ জুটতো। বাবা দৌলতদিয়া ঘাটে একটি দূরপাল্লার পরিবহনের তত্বাবধায়ক। প্রতিদিন ওই গাড়ি থেকে মাত্র ১৫০ টাকা পান। এ দিয়ে চলে তাদের সংসার। অন্যের সহযোগিতায় ও ঋণ করে চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসা শেষ করতে আরো প্রায় দুই লাখ টাকা প্রয়োজন।  
 
নিলয়ের বাবা শাহাজহান শেখ জানান, ঈদের দিন রানা এক বন্ধুর মোটরসাইকেলে দৌলতদিয়া থেকে গোয়ালন্দ ফিরছিল। এ সময় গোয়ালন্দ ফিডমিলের কাছে বিপরিত দিক আসা গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে পল্লীবিদ্যুতের খুটির সঙ্গে প্রচন্ড বেগে আঘাত লেগে দুইজন মারাত্মকভাবে আহত হন। এতে তাদের মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙ্গেচুরে যায়।
 
স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসক সংকট থাকায় পাশের ‘আল মদিনা’ নামক একটি বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে ভর্তি করে।
 
প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, মোটরসাইকেল চালকের ডান পায়ের রানের হাড় দ্বিখণ্ডিত হয়ে ভেঙ্গে গেছে। আরোহী নিলয় রানার বাম পায়ের হাঁটুর বাটি স্থানচ্যুত ও দুটি রগ ছিঁড়ে গেছে। এক্সরে করাসহ অন্যান্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসা দিয়ে হাঁটুর বাটি বসানো গেলেও রগের চিকিৎসা করাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
 
শাহজাহান শেখ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ফরিদপুরে চিকিৎসা করাতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ি নিয়ে আসার কয়েকদিন পর পুনরায় ঢাকার এক পরিচিতজনের সহযোগিতায় বাড্ডার একটি বেসরকারী হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছে, হাঁটুর রগের একটি জটিল অপারেশন করাতে হবে। অপরাশেনসহ চিকিৎসা বাবদ আরো প্রায় দুই লাখ টাকার মতো খরচ হবে। ঢাকা থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে আরো ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাকি টাকা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।
 
নিলয় রানা জানান, দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সে অসহায় হয়ে এখন ঘরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে আছে। বড় বোনের বিয়ের জন্য রাখা সব টাকা তার চিকিৎসায় ব্যায় হয়েছে। সামনে চিকিৎসা করাতে আরো প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হবে। এত টাকা পরিবারের পক্ষে কোনভাবে জোগাড় করা সম্ভব না। দুর্ঘটনার কারণে পরীক্ষা ঠিকমতো দিতে পারছে না। 
 
রানা আগের মতো ফের প্রতিদিন পাঠকের ঘরে ঘরে ইত্তেফাকসহ সব পত্রিকা পৌঁছে দিতে চায়। সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে চায়। এজন্য সে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।
 
নিলয় রানার সঙ্গে যোগাযোগের বিকাশ ও মুঠোফোন নম্বরঃ ০১৮৩৯-২৬৪৭৭৯।
 
ইত্তেফাক/নূহু্