বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে অবেহিলত বর্ধিত এলাকা ও গুচ্ছগ্রামের দিকে ছুটছেন মেয়র প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার দিনভর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড সহ ২৬ ও ২৭ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্ধিত এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় অবহেলিত বর্ধিত এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ট্যাক্স দিলেও তারা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। হাটু সমান কাদা পানি পেরিয়ে তাদের নৌকাতে করে যাতায়াত করতে হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকটও প্রকট বলে জানান স্থানীয়রা।
এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী অবহেলিত বর্ধিত এলাকার মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হতে পারলে তা সমাধানের আশ্বাস দেন। এছাড়া ১ ,২, ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও গণসংযোগ করেন তিনি। বিকেলে নগরীর ২৯, ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উঠান বৈঠকে যোগদান করেন সাদিক আব্দুল্লাহ।
উঠান বৈঠক ও গনসংযোগে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলম, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সম্পাদক কেএম জাহাঙ্গীরসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার সকালে নগরীর নাজির মহল্লা থেকে স্ব-রোড, বাজার রোড, দপ্তরখানা এলাকায় গণসংযোগ করেন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সরওয়ার নিজ বাসভবনে ৩০টি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে নির্বাচনী সভা করেন। বিকেলে নগরীর নতুন বাজার, হাসপাতাল রোড, কাটপট্টি এলাকায় গণসংগযোগ করেন তিনি। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার খান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন, মহানগর যুবদল সভাপতি আখতারুজ্জামান শামীম, জেলা যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলুসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
IMG0
অপরদিকে নগরীর বর্ধিতাংশ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এলাকা রসুলপুরের গুচ্ছগ্রামে দলীয় নেতাদের নিয়ে গণসংযোগ করেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব, বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী ও সিপিবির আবুল কালাম আজাদ। যেসকল বর্ধিতাংশে প্রার্থীরা যেতে পারছেন না সেসব স্থানে প্রার্থীর আত্মীয়-স্বজন ও নেতা-কর্মীরা গিয়ে গণসংযোগ করে আসছেন। সকল প্রার্থীই নির্বাচিত হতে পারলে তারা বর্ধিতাংশের উন্নয়ন আগে করবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে।
এদিকে প্রচারণায় সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে সরোয়ার বলেন, কেউ মিছিল করবে, লিফলেট বিতরণ করবে, পাড়া মহল্লায় অফিস করবে, আর বিএনপিকে মিছিলে বাধা দেবে, নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দেবে- এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নয়। তিনি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান।
গণসংযোগকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে সাদিক বলেন, এখন পর্যন্ত বরিশালে কোথাও কোনো অনাকাংক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে চলছে সব দলের প্রচার-প্রচারণা। তারপরও বিরোধী মেয়র প্রার্থীরা কেন অভিযোগ করছেন, তা বোধগম্য নয়। আওয়ামী লীগও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় দাবি করে দলটির মেয়র প্রার্থী বলেন, নৌকা প্রতীক ঘিরে জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হবে বলে শতভাগ আশাবাদী সাদিক।
ইত্তেফাক/ইউবি
