বিবাহিত, অছাত্র, কন্যা সন্তানের জনক ও আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল ও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকরীদের নিয়ে জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে কমিটির ৪ সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সম্পাদক বরাবরে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। পদত্যাপত্র প্রদানকারীরা হলেন- জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান, সহ-সভাপতি শাহ নাফিজ রিয়াজ উজ্জ্বল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি এম নয়ন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম রোমান।
তারা লিখিত পদত্যাগ পত্রে অভিযোগ করেন, ঘোষিত কমিটির সভাপতি মিকাইল হোসেন কন্যা সন্তানের জনক। তার অষ্টম শ্রেণি পাশেরও সনদ নেই। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের আপন ভাই জেলা ছাত্র লীগের যুগ্ম সম্পাদক। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদক আওয়ামী লীগ ভাবাপন্ন। এ সব কারণে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে তাদের সাথে থেকে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে তারা পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেছেন।
গত ১২ জুলাই মিকাইল হোসেনকে সভাপতি ও সাইফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পদক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ওই দিনই জেলা ছাত্রদলের ৪ সদস্য পদত্যাগপত্র ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠান।
অভিযুক্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিকাইল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারি এসকে কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছি। আমি বিয়ে করিনি। আমার কোন কন্যা সন্তান নেই। আমি ৫ বছর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এর আগে দু বছর সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলাম। আমি এ সরকারের সময়ে কারা বরণ করেছি। পদত্যাগী ২ জনের সাথে আমার ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তারা মিথ্যা অভিযোগ করতে পারে বলে ধারণা করছি।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ছাত্রলীগ করেণ অনেক বছর ধরে। আমি ছাত্রদল করি ৭/৮ বছর। আমি কখনো আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল ও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেইনি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। এ ছাড়া পদত্যাগী ৪ নেতা জেলা ছাত্রদলের স্বপদে বহাল থাকতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তদবির শুরু করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, আমাদের হাতে এখনো পদত্যাগপত্র এসে পৌঁছায়নি। যোগ্যদেরই গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নেতা করা হয়েছে। তারপরও পদত্যাগ পত্রে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর আমরা দেখবো।
ইত্তেফাক/এমআই
