পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট নওয়াজ শরিফ এবং তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে রাখা হয়েছে। তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার রাতে লন্ডন থেকে আবুধাবি হয়ে দেশে ফেরার পরই লাহোর বিমানবন্দরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ইসলামাবাদ নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে এক সপ্তাহে নির্বাচনী সভায় হামলায় দেড়শ’র বেশি নিহত হওয়ায় আজ রবিবার দেশটিতে একদিনের শোক পালন করা হবে। খবর ডন ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার
আদিয়ালা জেলে নওয়াজ ও মরিয়ম
শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে একটি বিশেষ বিমানে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে নামেন নওয়াজ (৬৮) ও তার মেয়ে মরিয়ম (৪৪)। এ সময় দেশটির জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরোর প্রতিনিধি দলসহ নিরাপত্তারক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে পৃথক গাড়িতে আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে আদিয়ালা জেলের একটি কক্ষে রাতযাপন করেন নওয়াজ শরিফ। আর মরিয়মকে পাঠানো হয় নারীদের ব্যারাকে। জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরো নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ের আদালতে স্বশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। ইসলামাবাদের প্রশাসন সিহালা পুলিশ ট্রেনিং কলেজকে সাব জেল ঘোষণা করেছিল। কিন্তু রাতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাদেরকে আদিয়ালা জেলে নেওয়া হয়। আপাতত তাদের সেখানেই রাখা হবে বলে প্রশাসনের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে জি নিউজ।
জেলে সুবিধা
নওয়াজ ও তার কন্যাকে দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত যে সমস্ত বন্দীর আলাদা সামাজিক মর্যাদা রয়েছে, যারা শিক্ষিত অথবা ধনী জীবন-যাপনে অভ্যস্ত তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দীর মর্যাদায় রাখা হয়। তাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় না। তারা তৃতীয় শ্রেণির অশিক্ষিত বন্দীদের পড়ান। দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দীরা কক্ষে সরকার থেকে একটি খাট, একটি চেয়ার, একটি চায়ের পাত্র, একটা লণ্ঠন (যদি বিদ্যুৎ না থাকে), একটি তাক এবং গোসল ও বাথরুমের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পান। তারা টিভি, এসি, ফ্রিজ এবং পত্রিকাও রাখতে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এগুলোর ব্যয়ভার বন্দীদেরই বহন করতে হয়।
আজ শোক দিবস
পাকিস্তান চলছে শোকের মাতম। গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলায় দেড়শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তারা অভিযোগ করেছেন, সভাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল একেবারেই নাজুক। গতকাল শনিবার দেশটির ফেডারেল সরকার রবিবারকে শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
