ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার নয় : ইসি শাহাদাত চৌধুরী

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৮, ২০:৫৪

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুরে রাসিক নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় সমন্বয় সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ আছে উল্লেখ করে ইসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনী পথসভায় যে ঘটনা ঘটেছে এ ধরণের কোন ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে কেউ ঘটাতে বা প্রভাবিত করতে না পারে সে জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী সজাগ থাকবে। এছাড়া ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা কাজ করছে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রধান দলের মেয়র প্রার্থীর আচরণবিধি ভঙ্গের পরস্পর বিরোধী অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসি শাহাদাত চৌধুরী বলেন, অভিযোগ করা প্রার্থীদের নির্বাচনী সংস্কৃতি। অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকবে হবে। আমরা প্রাপ্ত অভিযোগ পুলিশকে দেবো, তারা তদন্ত করবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কোন সাজানো মামলায় বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। প্রয়োজনে প্রত্যেক প্রার্থীকে তাদের পোলিং এজেন্টদের তালিকা নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে দিতে হবে। যাতে তারা হয়রানী থেকে রক্ষা পান। তবে কোনো ওয়ারেন্টি আসামি পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

সাগরপাড়ার বোমার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছে। নিজ প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাহলে অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো ঘটবে না। ৩০ জুলাই রাজশাহীসহ তিন সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যাতে প্রত্যেক ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিজ বাসভবনে যেতে পারেন, সকল প্রার্থী যেন সমভাবে নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ পান, সে বিষয়ে সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ৩০টি মোবাইল কোর্ট থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে। বিজিবিসহ ওয়ার্ডগুলোতে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে র‌্যাব ও পুলিশের মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২২ থেকে ২৪ জন পুলিশ ও আনসার থাকবে। রিটার্নিং অফিসারকে সহযোগিতার জন্য ১০ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ইসির পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নিজস্ব পর্যবেক্ষক থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনী ছাড়া কেউ বৈধ অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করতে পারবে না। এছাড়া ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী এলাকায় বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ ভাড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। নির্বাচনে কোন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা এড়াতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টরা নির্বিঘ্নে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।  রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃখলা বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশনের সচিব মতবিনিময় করেন।

ইত্তেফাক/নূহু