ইস্পাত শিট আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা চলছেই!

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৫

চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে ইস্পাত শিট আমদানিতে অসাধু ব্যবসায়ীদের মিথ্যা ঘোষণার প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। কাস্টমসের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রতিদিন এক বা একাধিক ইস্পাত শিটের মিথ্যা ঘোষণার তথ্য উদ্ঘাটন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার প্রায় তিন মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মিথ্যা ঘোষণায় আনা ৮৩টি চালান আটক করা হয়েছে। এছাড়া আরো প্রায় অর্ধশত চালান ভুলক্রমে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমান কাস্টমস কমিশনার মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানিকারকদের জানিয়েছেন, পূর্ব থেকে স্বীকার করলে অপেক্ষাকৃত কম জরিমানা করা হবে। কিন্তু মিথ্যা ঘোষণা ধরা পড়লে দুইশত ভাগ জরিমানা করা হবে। জানা যায়, কমিশনারের ওই ঘোষণার পর অনেকেই তাদের ভুল স্বীকার করে প্রকৃত তথ্য জানিয়ে আবেদন করছে। এদিকে গত তিন মাসে আটক ৮৩টি মিথ্যা ঘোষণার ইস্পাত চালান আটকের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আদায় হয়েছে বলে কাস্টমস কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান।

জানা যায়, হট রোল ঘোষণা দিয়ে গ্যালভানাইজড রঙিন শিট আমদানি করে। দীর্ঘদিন ধরে শিট আমদানিতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে আসছে। সূত্র জানায়, প্রতিবার নতুন একজন কমিশনার নিয়োগ পাওয়ার পর শিট আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই পূর্বের অবস্থা ফিরে আসে। একইভাবে শুল্ক মুক্ত আওতায় অনেক অসাধু গার্মেন্টস ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট কাপড়ের বাইরে দামি কাপড় নিয়ে আসে। যা পরবর্তীতে বাইরে বিক্রি করে দেয়। ফলে দেখা যায়, খোলা বাজারে বিদেশি কাপড় ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়। এতে করে বাণিজ্যিকভাবে কাপড় আমদানিকারক ব্যবসায়ী লোকসানে পড়েন।

সূত্রে জানা যায়, শিট আমদানির ক্ষেত্রে শিটের আমদানি মূল্যও কম দেখানো হয়। দেখা যায়, এ পর্যন্ত আটক প্রতিটি চালানে গড়ে প্রতিটনে প্রায় ২০০ ডলার কম দেখানো হয়। কারণ হট রোলের মূল্য যেখানে টন প্রতি প্রায় সাড়ে ৪০০ ডলার গ্যালভানাইজড রঙিন প্রতি টন শিটের মূল্য প্রায় সাড়ে ৬০০ ডলার। হট রোলের সঙ্গে গ্যালভানাইজড রঙিন শিটের শুল্ক ব্যবধানও প্রায় শতকরা ২০ ভাগ বেশি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রতি টনে প্রায় ১৫ টাকা বেশি হয়ে থাকে। জানা যায়, প্রতিবছর হাজার হাজার টন শিট আমদানি হয়ে থাকে। প্রতিটি চালান পরীক্ষা ছাড়া হট রোল এবং গ্যালভানাইজড রঙিন শিটের পার্থক্য বের করা সম্ভব নয়। ফলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা না করার কারণে মিথ্যা ঘোষণার পণ্য সহজে বের হয়ে যায়। আবার দেখা যায়, কন্টেইনারের সম্মুখ অংশে ঘোষণা অনুযায়ী হট রোল থাকে। কিন্তু ভেতরের দিকে রঙিন শিট নিয়ে আসা হয়েছে। একটি সংজ্ঞবদ্ধ অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে শিট আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, শিট আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ার প্রবণতা রোধে কাস্টমসের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।