লক্ষ্মীপুরে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মুরাদুল ইসলাম সুমন (২২) হত্যা মামলায় তার মা হাসিনা, ভাই মো. সোহেল ও আরো ৩ ভাড়া করা খুনিসহ ৫জনের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. এ কে এম আবুল কাশেম এ রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় আদালতে সাদ্দাম নামের এক আসামি উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা পলাতক রয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত. মমিন উল্লাহর ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন (২৫), সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনর ছেলে মো, সোহেল, মুরাদুল ইসলাম সুমনের মা হাসিনা বেগম, মৃত আনোয়ার উল্যাহর ছেলে আবদুর রহিম ও ইসমাইল হোসেন প্রকাশ কালা ইসমাইল।
আদালত সুত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখে নিখোঁজ হন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মুরাদুল ইসলাম সুমন। দুই দিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী বাঙ্গাখা ইউনিয়নের রাধাপুরের একটি বাঁশ বাগানে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
পরেরদিন প্রথমে নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদি হয়ে কে বা কারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে সাদ্দাম নামের একজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুমনের মা ও ভাইয়ের সম্পৃক্ততায় ৯০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫জনে মিলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশের এস আই আবুল বাশার ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে নিহতের মা ও ভাইসহ ৫জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিজ্ঞ আদালত বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানীতে ১০ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় প্রদান করেন।
লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের সরকারি কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
