শুকিয়ে গেছে বড়াল নদ রক্ষার দাবি স্থানীয়দের

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৩

এক সময় বড়াল নদ ছিল পানিতে টইটম্বুর। জেলেরা ধরত মাছ। নদীর পানি কৃষি উত্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। রাজশাহীর চারঘাট পদ্মা থেকে উত্পত্তি হওয়া বড়াল গিয়ে মিশেছে শাহজাদপুরের হুরাসাগরে। পদ্মা ও যমুনার সংযোগ স্থাপনকারী এই বড়াল নদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল হাট-বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

নদী আছে, পানি নেই, কচুরিপানায় পরিপূর্ণ আর ময়লার ভাগাড়— এই হলো বড়ালের বর্তমান হাল। কচুরিপানা, দখল আর দূষণের কবলে এখন বড়াল। বড়ালের কচুরিপানা মশক উত্পাদনের সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে। তবে এই কচুরিপানা অপসারণের দাবিতে জাতীয় নির্বাচনের আগেই আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি আসছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের চারঘাটে পাউবোর স্লুইস গেট নির্মাণ করে। কালের বিবর্তনে আরো বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা আর নির্মাণ করা হয়েছে স্লুইস গেট, রাস্তা ঘাট। দীর্ঘদিন পর ২০০৮ সালে চাটমোহর থেকে গড়ে ওঠে বড়াল রক্ষা আন্দোলন। পরিবেশবাদী সংগঠন  বেলা, বাপা-সহ বিভিন্ন সংগঠন এতে সহযোগিতা করে। সরকারের কাছে বড়াল রক্ষার দাবি জানানো হয় জোরালোভাবে। স্থানীয়দের “বাঁধ ভাঙ্গো, ব্রিজ করো, বড়াল নদ চালু করো”শ্লোগানে মুখরিত হয় বড়াল পাড়। মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় বড়াল রক্ষার দাবিতে। বড়াল রক্ষার দাবিতে গণস্বাক্ষর নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে সরকার বড়াল রক্ষার পদক্ষেপ নেয়। অপসারণ করা হয় কয়েকটি বাঁধ ও স্লুইস গেট। নির্মিত হয় ব্রিজ। কিন্তু বড়াল প্রাণ ফিরে পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কথা হয়, বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব ও বাপা’র জাতীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এস এম মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “গতকাল (শনিবার) বাপার জাতীয় কমিটির সভায় বড়ালের কচুরিপানা ইস্যুটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আজ (রবিবার) আমি ও বাপা’র সেক্রেটারী ডাঃ আঃ মতিন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছি।” মিজানুর রহমান আরো বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা যেন স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী অঙ্গিকারের মধ্যে বড়াল নদের কচুরিপানা অপসারণ ও খননের বিষয়টি নেয়, তার জন্য আমরা কর্মসূচি দেব।”