সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শাহ আলমের লাশ আনতে আড়াই লাখ টাকা লাগবে। এত টাকা নেই শাহ আলমের বাবা-মায়ের। তাই দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শাহ আলমের পিতা-মাতা। কিন্তু কোনভাবেই লাশ আনার আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের পক্ষে।
জানা গেছে, জেলার মহম্মদপুর উপজেলার দেউলি গ্রামের সায়েন উদ্দিন মোল্যার ছেলে শাহ আলম ৪ জুলাই ২০১৮ সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। নিহত হওয়ার ২১ দিন পার হলেও শাহ আলমের লাশ আনা দেশে সম্ভব হয়নি।
ছেলের লাশ দেশে এনে দাফন সম্পন্ন করার জন্য তার মা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারঘাটে গিয়ে আর্থিক সাহায্য তুলছেন।
প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাহ আলমের মা তহুরন বেগম মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাহায্য তুলছেন। গত কয়েকদিনে এ পর্যন্ত ২১ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে তাদের।
ধার-দেনা করে ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট শাহ আলমকে সৌদি আরবে পাঠান হতদরিদ্র পিতামাতা। সেখানে পৌঁছে ১০ মাস নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করলেও পরিবারের জন্য একটি টাকা ও পাঠাতে পারেননি শাহ আলম। টাকা পাঠানোর আগেই লাশ হতে হয় তাকে।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান জানান, নিহত শাহ আলমের মা লাশ আনার জন্য টাকা তুলছেন এটা ঠিক নয়। লাশ আনা হবে সরকারী খরচে। লাশ আসতে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। আমি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। ঢাকায় লাশ আনার ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে কথা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
