এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত সর্দার এবং ১২ মামলার পলাতক আসামি সন্ত্রাসী নাজমুল হাসান (৩০) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ সময় ডাকাত দলের গুলিতে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলি ও চাপাতি উদ্ধার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরি চরপাড়া বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতংক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত সন্ত্রাসী নাজমুলের পিতার নাম মো. মোশারফ হোসেন। বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ভাদগ্রাম ইউনিয়নের বাগজান গ্রামে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের চিহিৃত সন্ত্রাসী রফিকুল ইসলাম রফিকের সহযোগি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আহত এসআই রিপন নাগ, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি নাজমুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। পথে পুষ্টকামুরি চরপাড়া এলাকায় তার সহযোগিরা নাজমুলকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়কালে সন্ত্রাসী নাজমুল আহত হয় এবং তার সহযোগিরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহত পুলিশ সদস্য এবং সন্ত্রাসী নাজমুলকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতাল থেকে চলে এলেও সন্ত্রাসী নাজমুলের অবস্থার অবনতি হয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেএসপি এলাকায় তার অবস্থার অবনতি হলে শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা সারে এগারটার দিকে নাজমুল মারা যায়।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আহত পুলিশ সদস্য এসআই রিপন নাগ, এএসআই রফিকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ সাহা, কন্সটেবল সরাফত হোসেন রাজু ও আশুতোষ দাসের চিকিৎসা চলছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
