সাভারে আপন ফুপা কর্তৃক এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় প্রতিবাদ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কথা বলায় প্রতিপক্ষের হামলায় সেলিম মিয়া (৩৮) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত আরও ৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার রাতে সাভার পৌর এলাকার উত্তর জামসিং সোলায়মান মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেলিম মিয়া ওই এলাকার হোসেন আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির ধর্ষক কবির হোসেন শিশুটির আপন ফুপা। গত ২১ জুলাই শনিবার ওই শিশুছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে কবির। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির পিতা পুলিশে অভিযোগ করলে বুধবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে কুয়েত প্রবাসী কবির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বিষয়টি নিয়ে রাতে কবির হোসেনের আত্মীয় আব্দুল কাদের মোল্লা ধর্ষনের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেন। এ সময় এলাকার মাছ ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া তার প্রতিবাদ করেন। বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে কাদের মোল্লা ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে সেলিম মিয়ার ওপর হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে হামলাকারীরা সেলিম মিয়াকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয় আরও ৫ জন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গুরুতর আহত সেলিম মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাবা রিপন মিয়া বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার কানাইনগর গ্রামে। আমরা পরিবারসহ মেয়েকে নিয়ে বোন শিল্পীর বাড়িতে ভাড়া থাকি। গত ২১ তারিখ আমরা বাসায় না থাকার সুযোগে কুয়েত প্রবাসী ভগ্নিপতি কবির হোসেন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার ১২ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ জামসিং এলাকার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কবির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, থানায় মামলা না করার জন্য কবিরের লোকজন আমাকে নিষেধ করেছিলো। কিন্তু আমি তাদের কথায় কর্নপাত না করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সেলিম আমার পক্ষে কথা বলায় এবং মামলা দায়েরে তার ইন্ধন রয়েছে অভিযোগ তুলে কবিরের লোকজন সেলিমের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে রাতেই সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
