ডেনমার্কের পুলিশ প্রথমবারের মতো নেকাবে মুখ ঢেকে জনসম্মুখে আসা এক নারীকে জরিমানা করেছে। বুধবার থেকে দেশটিতে নেকাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কাউকে অভিযুক্ত করা হলো।
শুক্রবার কোপেনহেগেনের ২৫ কিলোমিটার উত্তরের হরশোম শহরের একটি বিপণি বিতানে অন্য এক নারী ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মুখ থেকে নেকাব খুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে মারামারি বাধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ‘শান্তি বিনষ্টের অপরাধে’ দুই নারীকেই অভিযুক্ত করে।
তরুণীটিকে নেকাব খুলতে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেও সাড়া না পেয়ে পুলিশ পরে বাধ্য হয়েই ‘সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা নেকাবের’ জন্য জুনে পাস হওয়া আইনের প্রয়োগ করে। এর ফলে তরুণীটিকে এক হাজার ক্রোনার (১৫৫ মার্কিন ডলার) জরিমানা গুণতে হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।
জুনে ডেনিশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হলেও আইনটি ১ আগস্ট থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছিল। ওই আইনে নেকাব বা বোরকার কথা উল্লেখ না করলেও ‘জনসম্মুখে মুখ ঢাকা কাপড় পরিধানে জরিমানার’ কথা বলা হয়েছিল।
প্রথমবার সামান্য অর্থ গুনলেও পরেরবার জরিমানার পরিমাণ বাড়তে থাকবে। বারবার একই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দশ হাজার ক্রোনার (দেড় হাজার মার্কিন ডলার) পর্যন্তও জরিমানার বিধান আছে।
এই আইনের কারণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র তোপের মুখে পড়েছে ডেনিশ সরকার। অনেক মুসলিম নারীও ‘তাদের মূল্যবোধ পরিপন্থি’ আইনটি মেনে না চলার ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার রাতেও কোপেনহেগেনে আইনটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে; বোরকা ও নেকাব পরা নারীদের প্রতিবাদে অন্যরাও সংহতি জানিয়েছেন। বেলজিয়ামেও নারীদের নেকাবে মুখ ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা আছে। এর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় আদালতে মামলা হলেও গত বছর তা খারিজ হয়ে যায়।
ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও বুলগেরিয়ার পাশাপাশি জার্মানির বাভারিয়াতেও নেকাবে মুখ ঢাকায় সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক নিষেধাজ্ঞা আছে।
ইত্তেফাক/ জেআর
