নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে বিবাদে যুক্তরাষ্ট্র-উ. কোরিয়া

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১২:০৭
জুন মাসে সিঙ্গাপুরে বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিবাদের দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আসিয়ান আঞ্চলিক সম্মেলনে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখে চাপ অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তাদের এমন আহবানে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে শঙ্কিত উত্তর কোরিয়া। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
 
খবরে বলা হয়, জুনে সিঙ্গাপুরে কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সম্মত হন ট্রাম্প ও কিম। কিন্তু তারপরে প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সে বিষয়ে তেমন অগ্রগতি করতে দেখা যায়নি উত্তর কোরিয়াকে। বরঞ্চ সম্প্রতি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। 
 
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান আঞ্চলিক সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হওয়া যৌথ বিবৃতি দায়িত্বশীল উপায়ে ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নে উত্তর কোরিয়া দৃঢ় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 
IMG0
তিনি বলেন, তবে যেটা আশঙ্কাজনক সেটা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া। তাদের নেতার লক্ষ্য থেকে দূরে সরে গিয়ে প্রতিনিয়ত উত্তর কোরিয়া বিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া। 
 
রি তার বক্তব্য রাখার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোকে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহবান জানান। 
 
শুক্রবার পম্পেও বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখা  কিমের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক প্রতিশ্রুতি-বিরোধী। তবে শনিবার তিনি স্বর পাল্টে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তিনি আশাবাদী। নিরস্ত্রীকরণে সময় লাগলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব। 
 
তবে শনিবার  পম্পেও আরো বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা খুবই গুরুত্বরভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এসময় রাশিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের  কাজ করার ভিসা দিয়ে সম্ভবত রাশিয়া জাতিসংঘের প্রস্তাবনা লঙ্ঘন করছে। 
 
তিনি বলেন, আমি সকল দেশকে এটা মনে করিয়ে দিতে চাই যে এই প্রস্তাবনাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা মস্কর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করবো। আমরা প্রত্যাশা করি যে, রাশিয়াসহ সকল দেশ এই প্রস্তাবনাগুলো মেনে চলবে ও উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখবে।
 
তবে উত্তর কোরিয়ায় নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের নিয়মাবলী লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। 
 
পম্পেও শনিবার রি’কে বলেন, আমাদের শীঘ্রই আবার কথা বলা উচিৎ। রি জবাব দেন, আমিও এ বিষয়ে একমত পোষণ করি। আমাদের অনেক ফলপ্রসূ আলোচনা বাকি রয়েছে।
 
পম্পেও পরবর্তীতে এক টুইটে জানান, রি’র সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ছিল স্বল্পমেয়াদী ও নম্র। তিনি রি’কে কিম জং উনের কাছে লেখা ট্রাম্পের একটি  চিঠি হস্তান্তর করেছেন। 
ইত্তেফাক/ জেআর