একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে ২৫-৩৫ বছর বয়সীরা তাদের কর্মজীবনের কারণে বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে খেয়ে থাকেন। আর সেক্ষেত্রে জাঙ্কফুডই হয় তাদের প্রথম পছন্দ। ফলে যা হওয়ার তাই হয়! একদিক যেমন নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তেমনি স্পার্ম কাউন্ট কমে যাওয়ার কারণে বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রেও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
একাধিক গবেষণার পর কিছু খাবারকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে এই সব খাবার নিয়মিত খেলে পুরুষদের শরীরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন হয় যে ধীরে ধীরে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই বাবা হওয়ার ইচ্ছা থাকলে এইসব খাবার থেকে দূর থাকাই বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে যে খাবারগুলি এড়িয়ে চলতে হবে, সেগুলো হল...
১. ঠাণ্ডা পানীয়: বেশ কিছু গবেষণা দেখা গেছে, নিয়মিত কোল্ড ড্রিঙ্ক পান করলে স্পার্ম কাউন্ট চোখে পরার মতো কমে যেতে থাকে। ফলে এক সময় গিয়ে বাবা হওয়ার ক্ষমতাটাই চলে যায়। তাই এবার থেকে তৃষ্ণায় গলা ভেজাতে কোল্ড ড্রিঙ্কের পরিবর্তে জুস কিংবা পানি খাওয়া শুরু করুন।ক্ষতির চেয়ে উপকার বেশি পাবেন।
২. প্রক্রিয়াজাত মাংস: এটি খাওয়া আজ-কাল প্রায় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অফিসের চাপে এখন আর কারও হাতেই রান্না করার সময় নেই। কিন্তু তারা জানতে পারছেন না এমন খাবারের কারণে শরীরের কতটা ক্ষতি হচ্ছে। ২০১৪ সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। তাতে দেখা গিয়েছিল প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে স্পার্ম কাউন্ট প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। আর এমনটা হলে বন্ধ্যত্বের সমস্যা অনেক বেশি থাকে।
৩. চিজ এবং ফুল ক্রিম দুধ: ২০১৩ সালে হিউমেন রিপ্রোডাকশনের উপর করা এক গবেষণা অনুসারে দীর্ঘ দিন ধরে চিজ এবং ফুল ফ্যাট মিল্ক খেলে স্পার্ম কাউন্ট চোখে পরার মতো কমে যায়। তবে তাই বলে দুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না যেন! শুধু ফুল ফ্যাট মিল্কের বিকল্প কিছু একটা খুঁজে নিলেই হবে।
৪. সোডা: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সোডা ওয়াটার পান করলে শরীরের ভেতরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এছাড়া ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকে। তাই বাবা হওয়ার পরিকল্পনা যদি করে থাকেন তাহলে এই ধরনের পানীয় থেকে দূরে থাকুন।
৫. অ্যালকোহল: এটি পান করলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কারণ অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করা মাত্র নানাবিধ ক্ষতি সাধন করে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হল স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেওয়া। তাই এবার থেকে যখন গ্লাস হাতে নিবেন, তখন একবার ভাববেন এমনটা করাতে আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে না তো!
৬. মাত্রাতিরিক্ত হারে ধূমপান: বিশেষজ্ঞদের মতে মাত্রাতিরিক্ত হারে ধূমপান করলে স্পার্ম উৎপাদনের ক্ষমতা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে স্পার্ম কাউন্টও কমে। তাই পরের প্রজন্মের মুখ যদি দেখতে চান তাহলে ধূমপানের নেশায় নিয়ন্ত্রণ আনাটা জরুরি।
ইত্তেফাক/বিএএফ
