ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইরানকে ‘আত্মসমর্পণ’ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবার ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ খবর জানা যায়। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা গত সপ্তাহ থেকে কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করবে তাদের যুক্তরাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে ইসহাক জাহাঙ্গিরি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অধীনে আমাদের সবার জন্য প্রথম অগ্রাধিকার হলো— দেশটি এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যেন সাধারণ মানুষের ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। যুক্তরাষ্ট্র নানাভাবে আমাদের সমাজে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে পশ্চাদপসরণ ও আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করছে।
ইসহাক জাহাঙ্গিরির মতো একইরকম মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। যদিও তিনি তার মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেননি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে হাসান রুহানি বলেছেন, আমরা আমাদের শক্রকে আমাদের হাঁটুর কাছে নিয়ে আসবো না। যদি শক্ররা মনে তারা আমাদের পরাজিত করবে— তাদের এ আশাকে তারা যেন সঙ্গে করে কবরস্থানে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে তা আসলে চুক্তির শর্তাবলীকে ধ্বংস করছে।
ইরানের ইউএস ডলার কেনা, ধাতু বাণিজ্য, কয়লা, কারখানা সংক্রান্ত সফটওয়্যার এবং যানবাহন খাতকে লক্ষ্য করে এ নতুন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যদিও ইরানের তেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপগুলো চার মাস ধরে কার্যকর হচ্ছে না।
এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে। তবে নতুন এ নিষেধাজ্ঞা প্রভাবের ক্ষমতা প্রধানত ইউরোপীয় ও এশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দেখাতে পারে ওয়াশিংটন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞা সোমবার প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। অপরদিকে দেশটিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি, চাকরির অভাব ও রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার ইরানি। যদিও এসব প্রতিবাদ প্রায়শই সরকার বিরোধী সমাবেশে রূপ নেয়।- রয়টার্স
ইত্তেফাক/ জেআর
