লিংক রোডের একপাশে সংস্কার, অপরপাশে ভাঙচুর

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৫৩
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ৪ মাস আগে শুরু করা কাজ এখনো চলমান রয়েছে। অথচ যে লেন এর কাজ সমাপ্ত করেছে সেই দিকেও ভাঙন ধরেছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গেছে। ঢেউ হয়েছে সারা রাস্তায়। সংস্কার করা অংশ ব্যবহারের আগেই চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কার করা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে কাজের গুণগত মানকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ধুলাবালি আর বৃষ্টির পানির মধ্যে ঢালা হচ্ছে পিচ। নির্মাণ করার সঙ্গে সঙ্গে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। 
 
এদিকে মান রক্ষার বিষয়টি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান কাজ পরিদর্শনে এসে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। 
 
সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানের ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিম্ন মানের কাজ হলে শাস্তি, ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।’ গত ৮ মার্চ ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের রাস্তার সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। 
 
মন্ত্রী জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ৮ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যদিও বাস্তবায়ন কাল ৬ মাস ধরা হয়েছে তবে সেটা এপ্রিলের মধ্যে বর্ষার আগে কাজ শেষ করতে চাই। কারণ বর্ষায় জনগণের ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দিন রাত কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে করে তিন মাস আগে কাজ শেষ হয়।
 
গত ১৩ জুলাই দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাঢ়ায় সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হচ্ছে দেশের ব্যস্ততম সড়কের একটি। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এ রুটে যাতায়াত করে। ৬ মাস ধরে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে লিংক রোডের জন্য। প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ রোডের নির্মাণ কাজে গাফিলতি হলে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নিবো প্রয়োজনে কন্ট্রাকটারের বিরুদ্ধে। আশা করছি লিংক রোডের কাজটি সম্পূর্ণ কোয়ালিটি মেনেই শেষ হবে।’
 
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, আমাদের এই সড়কের কাজ এখন করার কথা না, কারণ বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে আমাদের ক্ষতি হয়। তারপরও সড়ক ও জনপদ বিভাগের অনুরোধে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে হচ্ছে। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। 
 
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বৃষ্টির মধ্যে মামুদপুর-ভূইগড় এলাকায় কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বৃষ্টি না থাকলেও গর্তে জমে থাকা শক্ত কাঁদা বালুর উপরই পিচ ঢালছে নির্মাণ শ্রমিকেরা। যার কারণে ঢাকামুখী লেনের মতই নারায়ণগঞ্জমুখী লেনের অবস্থা হবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন এমন সংস্কার হওয়ার চেয়ে না হওয়াই ভাল। কারণ এ সংস্কার মানুষকে চরম ভোগাবে।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ