স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বকাপের আগে পেসারদের ইনজুরিই বাংলাদেশের শিবিরের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। গতকাল বিশ্বকাপ ক্যাম্পের প্রথম দিনে এমন শঙ্কার কথা বলেছেন বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। কারণ বিশ্বকাপ দলে থাকা পাঁচ পেসারের তিনজনই ইনজুরিতে ভুগছেন। মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেনদের ইনজুরি ভাবাচ্ছে ওয়ালশকে।
গোড়ালির ইনজুরিতে বোলিং করতে পারছেন না মুস্তাফিজ। সাইড স্ট্রেইনের ব্যথা কাটিয়ে বোলিং পুরোদমে শুরু করতে পারেননি রুবেল। প্রিমিয়ার লিগ মাতালেও সাইফউদ্দিনের টেনিস এলবো ইনজুরি রয়েছে তার। ব্যাটসম্যানদের ফর্মের চেয়ে পেসারদের ইনজুরিই বেশি চিন্তায় ফেলছে এই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তিকে।
গতকাল তিনি বলেছেন, ‘ইনজুরিই এখন বড় চিন্তা। মুস্তাফিজ ইনজুরিতে, সে বল করতে পারছে না। রুবেল মাত্র ইনজুরি কাটিয়ে উঠছে। সাইফউদ্দিনের টেনিস এলবোতে সমস্যা রয়েছে। তাই এগুলোই এখন মূল চিন্তা। কারণ তারা ক্রিকেট খেলছিল। আমি তাদের নিয়ে চিন্তিত নই যারা ক্রিকেট খেলছে, আমি চিন্তিত যারা ইনজুরিতে পড়েছে।’
বিশ্বকাপ দলে থাকা পেসারদের সুস্থ আছেন শুধু মাশরাফি বিন মুর্তজা ও আবু জায়েদ রাহী। তার মধ্যে মাশরাফিও শতভাগ ফিট নন। এসব ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বোলিং কোচ হিসেবে ওয়ালশের জন্য বড় মাথা ব্যাথার কারণ। তিনি বলেছেন, ‘পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ইনজুরিতে। মুস্তাফিজ, রুবেল এবং সাইফউদ্দিন— যাদের টেনিস এলবোতে সমস্যা। আমাদের প্রয়োজন সঠিক মানসিকতায় তাদেরকে বোলিংয়ে ফেরানো, আয়ারল্যান্ডে বোলিং করার মতো ক্ষুরধার এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা। আমাদের তাসকিন, খালেদ এবং শফিউল রয়েছে। আপনি বলতে পারেন, তারা আছে যদি আমাদের প্রয়োজন হয়।’
আবাহনীর হয়ে প্রিমিয়ার লিগে খেললেও মাশরাফি পুরো ফিট নন। হ্যামস্ট্রিংয়ের টান রয়েছে ওয়ানডে অধিনায়কের। ওয়ালশ বলেছেন, ‘আমি জানি মাশরাফি যোদ্ধা, সে লড়াই করবে। কিন্তু সেও শতভাগ ফিট নয়। তাই এখন চেষ্টা করতে হবে তাদের ফিট করার, যাতে আয়ারল্যান্ডের জন্য প্রস্তুত থাকে। তাই তাদেরকে অনেক ব্যবহার করা যাবে না কারণ আবার যদি ইনজুরিতে পড়ে। তাই আমি হেড কোচকে বলেছি যে, আমরা আয়ারল্যান্ডের জন্য কিছু বিকল্প ফাস্ট বোলার নিতে পারি কি না। সম্ভবত এটা এসব বোলারকে পুরোপুরি সেরে উঠতে সাহায্য করবে।’
ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বোলারদের বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন ওয়ালশ। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করতে হবে পেসারদের। তিনি বলেছেন, ‘এটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিশ্বকাপ লম্বা টুর্নামেন্ট হবে। ওখানে ভালো ক্রিকেট উইকেট থাকবে, যেগুলো ব্যাটিং-বান্ধব হবে। আমাদেরকে বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করতে হবে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’
এদিকে গতকাল সকালেই রানিং সেরে নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। সাড়ে ৯টার পর বিশ্বকাপ ক্যাম্পের প্রথম দিনের প্রথম ভাগে মিরপুর স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটে পালাক্রমে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যাটিং করেছেন তারা। পরে তাদের মতোই লম্বা সময় ব্যাটিং করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান। ব্যাটিংয়ের আগে রানিং করেছেন তারাও।
ক্যাম্পের প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ ক্রিকেটার। মাঠে ঢুঁ মেরে গেছেন সাইফউদ্দিন, সৌম্য সরকার, ইয়াসির আলী রাব্বি। প্রিমিয়ার লিগ খেলার কারণে স্কোয়াডের অন্য ক্রিকেটারদের মতো তারাও গতকাল যোগ দেননি ক্যাম্পে। আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ক্যাম্পে থাকবেন সাকিব আল হাসান ছাড়া বাকি সব ক্রিকেটার।
তবে কোচিং স্টাফের ছয় সদস্য উপস্থিত ছিলেন গতকাল। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ থেকে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় চলে আসার কথা স্পিন কোচ সুনীল যোশির।
