ঈদ উত্সবে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণের মানুষের উপচে পড়া ভিড় সর্বত্র। তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চ, বাস ও স্টিমারে। বিরূপ আবহাওয়ায় থেমে থেমে বৃষ্টিতে রবিবার রাত থেকে বিআইডব্লিউটিসি’র দু’টি জাহাজসহ ২৪টি নৌযান ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী নিয়ে বরিশাল নৌ-বন্দরে পৌঁছায়। বাস টার্মিনাল, ফেরি ঘাটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের। নৌ-বন্দরে নেমেই যানবাহন পেতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয়েছে যাত্রী সাধারণের। যাত্রীরা জানান, ডাবল কেবিন ১৬শ’ টাকার স্থলে ২২শ’ ও সিঙ্গেল কেবিন ৮শ’ টাকার স্থলে ১২শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ডেকে সাধারণ ভাড়া ২০০ হলেও এখন ২৫০ টাকা। লঞ্চের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৫শ’ যাত্রী হলেও গত রাত থেকে ৭ সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো টার্মিনালে নোঙর করে। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সীমাহীন। থেমে থেমে বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চের ছাদে আসতে হয়েছে। যাত্রীরা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চে মাঝ নদীর ঢেউয়ে চরম আতংকের কথা জানান। নদী বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের কর্মস্থল থেকে ঈদে বাড়ি আসা ও ফিরে যাওয়ার জন্য নৌ-পথের এসব নৌ-যান হচ্ছে ভরসা। বর্ষা মৌসুমের কারণে এখন নৌ-পথ ঝুকিপূর্ণ।বরিশাল নৌ-টার্মিনাল সূত্র জানায়, লঞ্চগুলো যাত্রী বোঝাই করে আসলে এখানকার বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদেরও লাভ হয়ে থাকে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী বোঝাই করে লঞ্চগুলো টার্মিনালে ভিড়লেও তা দেখেও যেন না দেখার ভান করে এখানকার কর্মকর্তারা।
মধ্যরাত কিংবা ভোররাতে যে সময়ই হোক না কেন বরিশাল নগরীতে রিকশা-অটোরিকশা, আলফা মাহেন্দ্র কিংবা মাইক্রোবাসে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫ গুণ। লঞ্চঘাট থেকে একটি রিজার্ভ অটোরিকশা সাধারণ সময় নগরীতে ৬০-৭০ টাকায় পরিবহন করলেও রাতে আদায় করা হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা করে। বরিশাল থেকে গড়িয়ারপাড়ে যেতে হলে মাহিন্দ্রা জনপ্রতি ২০ টাকার বেশি ভাড়া লাগে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে একাধিক অটোরিক্সা চালক ও মাহিন্দ্র চালক জানান, ট্রাফিক পুলিশ ও নৌ- থানা পুলিশকে ঈদ বকশিস দিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে হয়।
লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা ঈদ-কোরবানি ব্যতীত সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক কম টাকায় যাত্রী পরিবহন করে থাকেন। কেবল ঈদ-কোরবানি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাদের বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে গতকাল নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়। কোথাও আবার অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন ফেরি ঘাটে লক্কর ঝক্কর ফেরির কারণে লেবুখালী ফেরি, লাহার হাট ফেরিসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়েছে।
২৫শ’ টাকার বিমানের টিকিট ৯ হাজারেও মিলছে না
আকাশপথে বেসরকারি বিমান ইউএস বাংলা ও বিমান বাংলাদেশ বিশেষ ফ্লাইটের পাশাপাশি ভাড়াও বৃদ্ধি করেছে। আকাশপথে ঢাকা-বরিশাল রুটে একমুখি ভাড়া সাধারণত সর্বনিম্ন ২৫শ’ টাকা থাকলেও ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে বিমান বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ৬ হাজার ৫শ’ ও সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫শ’ এবং ইউএস বাংলা ৮ হাজার ৫শ’ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে। সোমবার ও আজ মঙ্গলবারের জন্য যাত্রীরা সর্বোচ্চ ভাড়া ৯ হাজার টাকায় টিকিট কিনতে চাইলেও টিকেট পাননি। কাউন্টারগুলো থেকে যাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হয় ঐ দামে পূর্বেই টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
