বেড়ার চরপেঁচাকোলা গ্রামে যমুনার ভাঙনে দুই সপ্তাহে একটি মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ আড়াই শতাধিক বসতবাড়ি যমুনাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সে সব পরিবারের সদস্যরা এখন আশেপাশেই কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিচ্ছে।
নাজমা বেগম নামের এক গৃহিণী হাত দিয়ে যমুনার মাঝ বরাবর দেখিয়ে বললেন, ‘ওই ওখানে ছিল মাদ্রাসা এবং কমিউনিটি ক্লিনিক। কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় এখানে ন্যূনতম চিকিত্সা ব্যবস্থা নেই। অসুখ বিসুখে নদী পার হয়ে যেতে হয়। ফলে বেঁচে থাকা অনেক কষ্ট হয়ে গেছে ভাই’। ভাঙন থেকে মাত্র আট-দশ গজ দূরে সত্তুরোর্ধ্ব আক্কেল আলীর মুদি দোকান। চোখে এক রাশ হতাশা। তার আশঙ্কা সামনের বছর হয়তো তার আয়ের একমাত্র উত্স দোকান ঘরটিও যমুনার পেটে চলে যাবে। এই দোকানের সঙ্গেই রয়েছে দ্বিতল চর পেঁচাকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে কয়েকশ’ শিক্ষার্থীর ভরসা এই বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হবে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, উপজেলার চরপেঁচাকোলা গ্রামের পূর্ব প্রান্তে বিশাল চর জেগে উঠেছে। যমুনার স্রোতধারা পশ্চিম প্রান্তে সরে এসে সরাসরি চরপেঁচাকোলা গ্রামে আঘাত করেছে। এতে দুই কিলোমিটার এলাকাব্যাপী প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন এলাকায় পানির গভীরতা দাঁড়ায় ৪০ ফুট।
চরপেঁচাকোলা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আলহাজ মাওলানা আঃ সোবহান জানান, গত ৫০ বছরে যমুনার এমন ভয়াবহ ভাঙন তিনি দেখেননি। চোখের পলকে ঘর গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চোখে না দেখলে নদী ভাঙা মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করা যায় না। গত ১৫ বছরে নদী ভাঙনে অনেক গ্রাম, মসজিদ, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ২৫ হাজার পরিবার সহায় সম্বল হারিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা অন্যত্র জমি কিনে ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাস করেছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই তারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। চরপেঁচাকোলা গ্রামের প্রবীণ লোক মজিদ মোল্লা। গত এক যুগে দুই দফা নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। এক সময় ২০ বিঘা জমি ও সাজানো ঘর-বাড়ি ছিল তার। এখন কিছুই নেই, সবই যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে।
বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের কৈটলা নির্মাণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, বেড়ার ভাঙন কবলিত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
