দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে বাসের টিকিট

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪৬
বিভিন্ন রুটে ঢাকা ফেরার বাসের টিকিটের দাম দিগুণ নেওয়ার অভিযোগ করেছে সাধারণ মানুষ। যাত্রীরা বাসের কাউন্টারগুলোতে কর্মরত কর্মচারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ৫০০ টাকার টিকিট  কমপক্ষে হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। 
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশের মতো রংপুরেও ঈদ উপলক্ষে তিন-চার দিন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে। এর কারণ ঢাকায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর সেই গাড়ি বর্তমান সময়ে রংপুরে খালি আনতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরত আসার জন্য গাড়ির তেল খরচটা নেওয়া হচ্ছে।
 
ঈদের ছুটির সঙ্গে এবার দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে গত শনিবার থেকে তা শেষ হয়েছে। রবিবার থেকে যথারীতি শুরু হচ্ছে অফিস-আদালত। সে কারণে রংপুর থেকে ঢাকায় ফিরতে বাস-ট্রেনের কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
 
যাত্রীরা জানায়, ঈদের ছুটির পর প্রথম অফিস করতেই হবে। এর ওপর সন্তানদের স্কুল-কলেজ খুলতে শুরু করেছে। তাই দুর্ভোগ ও জুলুম মেনে নিয়েই ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু ঠিকমতো গাড়ি না পাওয়ায় বিপদে পড়েছে ঢাকায় কর্মরত এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
 
জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ লেখাপড়া, চাকরি, ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। তাদের অর্ধেকই বিভিন্ন গার্মেন্টে নারী শ্রমিক। ঈদের সময় এই বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে রংপুরে আসে। কিন্তু ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরে যেতে পড়তে হয় চরম বিড়ম্বনায়।
 
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর ঈদের পর রংপুর থেকে ঢাকায় যাওয়ার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হলেও এবার ঈদের অনেক আগেই বাসের কাউন্টারগুলোতে কোনো টিকিট নেই বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে কষ্ট করে বাড়িতে এসে ঈদ করলেও সময়মতো তাদের ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাউন্টারগুলোতে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে দ্বিগুণ দামে বাস-ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। 
 
যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীসহ এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা সেই ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। 
 
মেহেদি নামের এক যাত্রী বলেন, রবিবার ঢাকা যাওয়ার জন্য সকাল ১১টায় কাউন্টারে এসেছি। এসে দেখি কোনো বাসেরই টিকিট নেই। তবে দ্বিগুণ দাম দিয়ে অনেকে টিকিট নিচ্ছে। আমি হতবাক হয়ে ফিরে এলাম।
 
এ বিষয়ে একটি কাউন্টারের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘এই দামে নিলে নেন, না হলে চলে যান।’
 
আরিফ নামের অপর এক যাত্রী ঢাকায় যাওয়ার জন্য কাউন্টার থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন। আগের ঈদে রংপুর থেকে ঢাকায় যেতে বাসের টিকিটের মূল্য ছিল ৫ শ' টাকা। 
 
রংপুরস্থ কামারপাড়ায় ঢাকা কোচস্ট্যান্ডসহ রংপুরের আট উপজেলার বিভিন্ন কোচস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। মহাসড়কে যানজটসহ নানা কারণে সময়মতো গাড়ি না আসায় যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রয়েছে। 
 
গার্মেন্ট কর্মকর্তা হাবিল বলেন, ‘ঈদ করতে এসে বিপাকে পড়েছি। গাড়ির টিকিট না পাওয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িতে রেখে যাচ্ছি। চাকরি বাঁচাতে যেভাবেই হোক আমাকে যেতেই হবে।’
 
এমন অবস্থা বিরাজ করছে রংপুর থেকে ঢাকাগামী এস আর ট্রাভেলস, শাহ ফতেয়ালী, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, আগমনী এক্সপ্রেস, শ্যামলী ও ডিপজল পরিবহনসহ বিভিন্ন গাড়ির কাউন্টারে। বাস কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিচ্ছে, আগামী ৩১ আগস্টের আগে রংপুর থেকে ঢাকায় যাওয়ার কোনো টিকিট নেই। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ