চোর-ডাকাত ঠেকাতে যশোরের শার্শার নাভারন বুরুজবাগান ফরেস্ট অফিস পাড়ায়ে বসবাসকারীরা দল বেধে সারারাত পাহারা দিচ্ছে নিজেদের ঘর-বাড়ি। রাত হলে হাতে লাঠি, টর্চ লাইট আর মুখে বাঁশি নিয়ে ১০/১২ জনের একটি দল বাড়ি পাহারা শুরু করেন।
ইতিমধ্যে শার্শা উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেনের সহযোগিতায় এখানে ১২০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘উত্তর বুরুজ বাগান ফরেস্ট অফিস পাড়া প্রতিরক্ষা কমিটি’। এই কমিটির সকল সদস্যকে বিনামূল্যে টর্চ লাইট এবং বাঁশি প্রদান করেছেন চেয়ারম্যান।
IMG0
এলাকাবাসী জানান, ২০ বছর আগে যশোর-বেনাপোল সড়কের নাভারন ফরেস্ট অফিসের রাস্তার দুই পাশ ঘিরে গড়ে উঠে ফরেস্ট অফিস পাড়া। বর্তমানে এখানে ২০০টি পরিবারের বসবাস। তাদের অধিকাংশই চাকুরীজীবী। জনবসতি কম থাকায় কমবেশি চোরের উৎপাত ছিল এখানে। কিন্তু মাঝে মাঝে চোরেরা ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে সবকিছু চুরি করে নিয়ে যায়। বেড়ে যায় দিন দিন চুরির মাত্রা।
গত বছরের শেষের দিকে চোরেরা শফিউর রহমানের বাড়ি থেকে গ্রিল কেটে বাড়ির সকল সদস্যকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে নগত অর্থসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। তার পর থেকে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ডাকাতি। পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারে না।
সম্প্রতি সানাউল্লাহ্ ড্রাইভার, আবুল কালাম এবং সাহেব আলীর বাড়িতে ডাকাতির পর এখানকার বসতিরা চোর, ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে গড়ে তোলে এই প্রতিরক্ষা কমিটি।
IMG1
কমিটির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান কাকন জানান, চোর-ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে আজ আমাদের এ পথ বেছে নেওয়া। আমাদের কমিটির মোট ১২০ জন সদস্য আছে। প্রতি রাতে ১০জন করে পাহারা দিচ্ছে। এই ১০ জনের মধ্যে আবার ৩ জন আছে দলনেতা। প্রতিদিন রাত ১০টার পর শুরু হয় রাত জেগে পাহারা আর শেষ হয় সকালে। রাতে শার্শা থানার পুলিশের পেট্রোল দল এ পাহারা দলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। রাত জেগে পাহারা ব্যবস্থা শুরুর পর থেকে এ এলাকায় আর কোন চুরি.ডাকাতি হয়নি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান জানান, উপজেলা সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন এবং এলাকাবাসী চোর-ডাকাত ঠেকাতে রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন। পুলিশের একটি পেট্রোল দল সার্বক্ষণিক ঐ এলাকায় পাহারাদারদের সহযোগিতা করে থাকেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
