নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করতে আরো সাড়ে ৫শ মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ৬ জন মিডওয়াইফের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এই সাড়ে পাঁচশ মিডওয়াইফ আগামী সোমবারের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করবেন। তারা গ্রামে থেকে গর্ভবতী মায়েদের সন্তান ধারণের পর থেকে নিয়মিত চেকআপ, নিরাপদ ডেলিভারি এবং মা ও শিশুর পুষ্টির পরামর্শ প্রদান করবেন। এসব মিডওয়াইফদের তিন বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রামে পাঠানো হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। গ্রামের অনেক গর্ভবতী মা সঠিকভাবে সেবা পেতেন না। এখন থেকে তাদের সেবা নিশ্চিত করবে এসব মিডওয়াইফ।
গতকালের অনুষ্ঠানে মিডওয়াইফদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়নের অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রথম তিন হাজার মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি করেছেন। প্রথম ব্যাচের ৫৯৩ জনসহ দেশে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৩ জন মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ভালোবাসা অনুধাবন করে মায়ের মমতা ও বোনের স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথ পালনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত মিডওয়াইফদের পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন আপনাদের কাছ থেকে সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দক্ষ নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়নশীল দেশের মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক তন্দ্রা সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি) সুভাষ চন্দ্র সরকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব মশিউর রহমান, উপ-সচিব ডা. শিববির আহমেদ ওসমানী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ’দের শপথ বাক্য পাঠ করান তন্দ্রা সিকদার। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশে যোগ্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকার কারণে স্বাস্থ্য সেক্টরে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
চিকিত্সা শিক্ষায় মৌলিক বিষয় ও অ্যানেসথেসিয়ায় শিক্ষকের
ঘাটতি পূরণে উদ্যোগ নিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
দেশের চিকিত্সা শিক্ষায় মৌলিক বিষয় ও অ্যানেসথেসিয়ায় শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের ঘাটতি পূরণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিচ্ছে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বাংলাদেশের চিকিত্সা শিক্ষায় মৌলিক বিষয় ও অ্যানেসথেসিয়া শিক্ষায় উত্সাহ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই বিষয়গুলোর শিক্ষক ও চিকিত্সক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্তদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদানের প্রক্রিয়া গ্রহণের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। এলক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিত্সা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু
