সীতাকুণ্ডে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যুব-ছাত্রলীগের ২ কর্মী হত্যাকারী আসামিদের পুলিশ গত ৮ দিনেও গ্রেফতার না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটছে। আসামিদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিহতদ্বয়ের মা ছেমনা খাতুন আকুতি জানিয়েছেন।
নিহতদের মা জানান, ঘটনার দিন শোকসভা পালন শেষে তার দুই ছেলে বাড়ি ফিরছিল। পথে বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের দারোগারহাট এলাকার ত্রাস সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে ও তার উপস্থিতিতে শিমুল, খোকন, রাজিব, মঞ্জু, টিপু ও ফিরোজসহ ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী আমার দুই ছেলের ওপর হামলা চালায়। তারা আমার মেজো ছেলে রমজান আলীকে (২৮) গুলি করে, কিরিচ ও ছুরিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এ সময় আমার দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে মোঃ সিজান (১৬) তার ভাইকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা তাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত যখম করে পানিতে ফেলে দেয়। অথচ আমার ছেলেদের পিতা মৃত নুরুল আবছার একজন মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য।
তিনি বলেন, আমার স্বামী বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক হয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেন বিধায় স্বপ্নের দেশ গড়ার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আজ ক্ষমতায়। আমার ছেলে রমজান কোন খারাপ কাজে লিপ্ত থাকাতো দূরের কথা আমার অবুঝ ছোট ছেলে সিজান কোনদিন খারাপ কাজে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। কিন্তু আমার ছেলেদের হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের প্রধান ইসলাম এবং অন্য আসামীদের পুলিশ আজ ৮ দিন হয়ে গেলেও গ্রেফতার করেনি। বরং তাদেরকে গ্রেফতারেরর চেষ্টা না করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়ার সুযোগ করে দেয়। যাতে তারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে এলাকায় আবার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রমজান খুব শান্ত মেজাজের ছেলে ছিল এবং সে সব সময় এলাকার মানুষের অভাব অনটনে পাশে থাকতো। কোনদিন কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেনি। তাই পুলিশ কেন এখনো যে একটা আসামিও ধরতে পারেনি আমাদের প্রশ্ন ?
সীতাকুণ্ড মডেল থানায় রমজানের বিরুদ্ধে ৬/৭টি মামলার ব্যাপারে তার বড় ভাই সেলিম বলেন, মামলা সবগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট এবং তার প্রতিপক্ষ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ঐ সব মামলাগুলোতে জড়িয়েছে।কারণ আমার পিতা সহ আমাদের পরিবার এবং বাড়ির সকলে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী।
সিজানের মা ছেমনা খাতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় আকুতি জানান, তার ছেলেদের হত্যার সঙ্গে জড়িত নির্দেশদাতা ইসলামসহ বাকিদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তিসহ ফাঁসির জন্য।
থানা সূত্রে জানা যায়, ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ৮/৯টি মামলা আছে।
উল্লেখ্য গত ২৭ আগষ্ট রাত ৮টায় শোক সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইসলাম গ্রুপের হামলায় সহোদর দুই ভাই মারা যায়।
এদিকে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইফতেখার হাসান জানান, আসামিদের ধরার জন্য প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ দিদারুল আলম বলেন, পুলিশ কেন যে আসামিদের ধরছে না তা পুলিশই ভাল জানে। কারণ আমার দলে সন্ত্রাসী, খুনী ও চাঁদাবাজ নেতাকর্মী হতে পারে না।
ইত্তেফাক/নূহু
