চট্টগ্রাম নগরীর ৫৩টি ফিলিং স্টেশনে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রোল’ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী হেলমেট ছাড়া পেট্রোল না দেওয়ায় মোটরসাইকেল চালকরা বাধ্য হয়েই হেলমেট সঙ্গে রাখছেন। হেলমেট না থাকায় অনেককে তেল না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কর্মসূচি থাকলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমবে।
চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে সিএমপির নির্দেশনা মানা হচ্ছে। এ সময় জ্বালানি নিতে এসে হেলমেট না থাকায় অনেককে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। তবে তারা সিএমপির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেককে ফিলিং স্টেশনের পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে নতুন হেলমেট কিনে জ্বালানি সংগ্রহ করতেও দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো, মোটরসাইকেল চালানোর সময় বাধ্যতামূলক হেলমেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চালক ও পাম্প কর্মচারীদের সচেতনতা বাড়াতে গত মঙ্গলবার থেকে নগরীতে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রোল’ কর্মসূচি চালু হয়েছে।
নগরীর কিউসি পেট্রোল পাম্পে হেলমেট ছাড়া তেল নিতে যাওয়া মোটরসাইকেল চালক আফজালুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। পরের দিন থেকে হেলমেট নিয়েই বের হবেন। খান এন্ড সন্স পেট্টোল পাম্পে কথা হয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা রোহান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই চমত্কার একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমবে। তবে এটা যেন স্থায়ী রূপ পায় সে ব্যবস্থা করা উচিত।’
সিএমপি কমিশনার মোঃ মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের সকল ফিলিং স্টেশনে চিঠি ছাড়াও নির্দেশনা সম্বলিত ফেস্টুন ও স্টিকার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে, লিফলেট দেওয়া হয়েছে। কোনো ফিলিং স্টেশনে যদি পুলিশের কোনো সদস্যও হেলমেট ছাড়া তেল নিতে যায় তবে তাদেরও যেন জ্বালানি দেওয়া না হয়।
কিউসি, বাদশা মিঞা, গাজী ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। এতে খোলা বাজারে তেল বিক্রির পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও চালকরা লাভবান হবেন।
ইত্তেফাক/নূহু
