ওয়াটার কিপারসের নতুন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, তুরাগ নদী সবচেয়ে বেশি দূষিত নদীর তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে। দায়ী করা হচ্ছে আবাসিক এলাকা বৃদ্ধি ও তুরাগ তীরে গড়ে ওঠা ভারী শিল্পগুলোকে। যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হলেও কিছু ব্যাপার ঢাকা পড়েই থাকে। তুরাগের দূষণ সব মাত্রা ছাড়িয়ে বেশি হওয়ার কারণের পেছনে যে বিষয়গুলো রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম আরেকটি কারণ হলো তুরাগে সংযোজিত হওয়া খাল ও এর শাখা নদীগুলো। তুরাগে যতগুলো খাল গিয়ে পতিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম লবলং সাগর খ্যাত শ্রীপুরের মাওনা দিয়ে প্রবাহিত হওয়া খালটি।
শ্রীপুরে বৈধ ও অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো কম্পোজিট, ডাইং, ওয়াশিং, কীটনাশক, ওষুধ ও খাদ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান। মূলত এইসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহূত পানি তোলাও হচ্ছে ভূগর্ভ থেকেই। কোনো নিয়ম না মেনে পানি তোলার বিষয়টি আমরা বারবার আলোচনায় আনার চেষ্টা করেছি। তুরাগের পানি দূষণের কথা যখনই আসছে তখন অনেকগুলো বিষয় এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। খেয়াল করলেই দেখা যায়—তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, খিরু নদী ও লবলং সাগরের পাড়ে যে কৃষি ব্যবস্থাপনা রয়েছে সেখানেও হানা দিয়েছে দূষিত পানি।
সেদিন লবলং সাগরের দূষণ ও দখল বন্ধে মানববন্ধন করার সময় উঠে আসে ভয়ানক তথ্য। একজন কৃষক জানান তাঁরা দশ বছর যাবত্ দূষিত পানি দিয়েই চাষ করে যাচ্ছেন! তাহলে দাঁড়াল এর প্রভাব থেকেই যাচ্ছে ধানের মধ্যে, যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে অনায়াসে।
ওয়াটার কিপারসের রিপোর্টে বলা হয়েছে তুরাগের পানিতে বিদ্যুত্ আয়নের পরিমাণ বেশি। কন্ডাক্টিভিটি বেশি হলে টিডিএস (টোটাল ডিসলভ সলিড), টিএসস (টোটাল সাসপেন্ডেড সলিড)-এর পরিমাণও বেশি হবে। একই প্রবাহমানতায় অনেক দিন ধরে ৫০০ পিপিএম-এর বেশি টিডিএস যুক্ত পানি প্রবাহিত হলে মাটি কতটুকু পানি ভূগর্ভে পাঠাতে পারবে তা কিন্তু ভাববার বিষয়। নদীর তলদেশে মাটির ফিল্টারিং ক্ষমতা না থাকার কথাই; কারণ সেখানে পলিথিন ও প্লাাস্টিকের আস্তরণ রয়েছে ও তলানিতে পড়ে গেছে দূষণের স্তর! তাই গাজীপুরের সামগ্রিক এলাকার পানি পরীক্ষার জন্য প্রত্যেকটি খালের মুখে একটি করে ইটিপি, পানির মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যাব, এসটিপি সরকারের পক্ষ থেকেই নির্মাণ করা প্রয়োজন।
সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর
