মো. আবদুল মালেক, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর মেঘনার উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এখানে ব্যাপকভাবে রবি ফসলের আবাদ হয়। রবি মৌসুমের এখানকার প্রধান ফসল সয়াবিন। সায়াবিন ছাড়াও অন্যান্য ফসল উত্পাদন করেন কৃষকরা। এরমধ্যে মরিচ, বাদাম, ডাল, আলু, মিষ্টি আলু, মাসকলাই, মুগ, খেসারি, ফেলন, পেঁয়াজ, রসুন, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল উত্পাদন করেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ৯০ হাজার ২৩১ হেক্টর জমিতে রবি ফসলের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন বুনছেন কৃষক আর ৪১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে অন্যান্য রবি ফসল আবাদ করছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়া ও ঋতুর উপর নির্ভর করে দেশের কৃষি মৌসুমকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মৌসুমগুলো হচ্ছে: রবি মৌসুম, খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুম। ১৬ অক্টোবর হতে ১৫ মার্চ (কার্তিক মাস থেকে ফাল্গুন মাস) পর্যন্ত এ সময়কালকে রবি মৌসুম বলা হয়। লক্ষ্মীপুরে রবি মৌসুমে পেঁয়াজ, রসুন, শাক-সবজি ছাড়াও দানাশস্য গম, মূলজাতীয় ফসল আলু, মিষ্টি আলু, তৈলবীজ সরিষা, তিল, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী, তিসি, সয়াবিন, ডাল জাতীয় ফসল খেসারি, মুগডাল।
এছাড়াও তরমুজ, খিরা ও শসার আবাদ হয়েছে। আমন ধান ঘরে তোলার পরেই এখানকার কৃষকরা ব্যাপকভাবে রবি ফসল উত্পাদনের প্রস্তুতি নেয়। স্থানীয় কৃষকরা রবি ফসল রোপণ করে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেতের পরিচর্যায়। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ, চরউভূতি, মিয়ার বেড়ি, কালিরচর, কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া, চর ফলকন, চরমার্টিন, তোরাবগঞ্জ, চরকাদিরা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা রবিশস্য ফলাতে ব্যস্ত। কেউ করছেন সয়াবিন ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার, আবার কেউ মরিচ, বাদাম, ডাল, আলু, মিষ্টি আলু, মাসকলাই, মুগ, খেসারি, ফেলন, পেঁয়াজ, রসুন, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত পরিচর্যা করছেন।
সদর উপজেলার কালিরচরের কৃষক তাজু, মহিউদ্দিন, সাফায়েত ও মাহবুব জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমিতে ব্যাপকভাবে রবি ফসল আবাদ হয়েছে। এখন পোকা-মাকড় আক্রমণ না করলে ফসলের বাম্পার ফলন হবে। ধানের চেয়ে রবি ফসলে আয় বেশি, যে কারণে এই মৌসুমে এখানকার জমি অনাবাদী থাকে না।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৯০ হাজার ২৩১ হেক্টর জমি রবিশস্যের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। আর অন্যান্য ফসল আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে আলু ২২২ হেক্টর, মিষ্টি আলু ৪১৮ হেক্টর, মসুর ডাল ৮৪ হেক্টর, মাসকলাই ২৬ হেক্টর, মুগ ডাল এক হাজার ৭৫৫ হেক্টর, চিনাবাদাম দুই হাজার ১৬৮ হেক্টর, খেসারির ডাল ৪০৮ হেক্টর, ফেলন ডাল এক হাজার ৪৫৩ হেক্টর, পেঁয়াজ ৬২ হেক্টর, রসুন ১১৩ হেক্টর, মরিচ এক হাজার ৬২ হেক্টর, তরমুজ ২২৩ হেক্টর ও খিরা ২৬৩ হেক্টর জমিতে আবাদ করেছে কৃষক। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা রবি ফসল আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাম্পার ফলনের লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই প্রতিরোধ ও পোকা-মাকড় আক্রমণ যাতে না করতে পারে এসব ব্যাপারে কৃষকদের আগাম প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তাদের সার ও কীটনাশকের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, লক্ষ্মীপুর রবি ফসল উত্পাদনে উপযোগী। এখানে সয়াবিনসহ বিভিন্ন রবিশস্যের ব্যাপক উত্পাদন হয়ে থাকে।
