গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের ৪শ’ ৪২টি গাছ কর্তনের অনুমতি নিয়ে ১ হাজার ৫শ’ গাছ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাছকাটার সঙ্গে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
সরে জমিনে জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রায় ১৬/১৭ বছর আগে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজার হতে তেলিয়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে ইউক্লিপটার্সসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। সম্প্রতি ওই সড়কের মাত্র ৪শ’ ৪২টি গাছ কর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে টেন্ডার করা হয়। কিন্তু সুযোগ বুঝে এই সড়কের আরো সহস্রাধিক গাছ কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই গত কয়েকদিন থেকে কাটা শুরু করেছে। নিয়ম না মেনে এ গাছগুলো কাটা হচ্ছে। নিয়মানুসারে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিপক্ক গাছ বিক্রির জন্য টেন্ডার করার কথা। কিন্তু সরকারী এই নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে এসব গাছ কাটার মহোৎসব চালাচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবৈধভাবে এসব গাছ কাটা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে গাছ কাটা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ওইসব গাছ ক্রেতা শাহিন মিয়া ও রকি মিয়া নামের স্থানীয় দুই কাঠ ব্যবসায়ী জানান, তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের সভাপতি সবুজ মিয়ার সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে এ গাছগুলো ক্রয় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাসুদেবপুর এলাকার পূর্মিলা রানী নামের একজন নারী বলেন, আমাদের কালি মন্দিরের সামনে একটি বড় ইউক্লিপটার্স গাছ ছিল সেটাও জোর পূর্বক তারা কেটে নিয়ে গেছে।
IMG0
ওই এলাকার হারুন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি ফোন করে জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও কোন পদক্ষেপে নেননি।
সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের সভাপতি জহুরুল ইসলাম সবুজ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৪শ’ ৪২টি গাছ টেন্ডার করা হয়েছে। বাকি গাছগুলো টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে ১ হাজার ২শ’ গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ৪২টি গাছ ২৬ লাখ টাকা বিক্রি করা হয়েছে। গোপন করার কিছু নেই।
তালুককানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক মোবাইল ফোনে জানান, আমি একটু বাহিরে আছি। এ বিষয়ে আপনাদের সাথে পরে কথা হবে।
গোবিন্দগঞ্জ ফরেস্টর অফিসার মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি গত এক মাস আগে এই উপজেলায় যোগদান করেছি। তবে অভিযোগ পেয়ে চেয়ারম্যানকে বলেছি কাগজপত্র দেখাতে। তিনি গাছকাটার বিষয়ে রেজুলেশন দেখিয়েছেন। কিন্তু কর্তনের অনুমতিপ্রাপ্ত গাছের সংখ্যা নিয়ে গরমিল রয়েছে। তাই বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে সেখানে যদি কোন অনিয়ম থাকে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
