উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং বর্ষণের কারণে গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি গত কয়েকদিন ধরে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘটের পানি ১৬ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের ৭ সেন্টিমিটার, তিস্তার ১০ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়। তবে এগুলো এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। এদিকে, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন ফুলছড়ি উপজেলার উজানডাঙ্গা গ্রামের ৫০টি পরিবার।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, পানি বাড়তে থাকলেও নদ-নদীগুলো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ১০সেন্টিমিটার, ঘাঘট গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৪০সেন্টিমিটার, তিস্তা সুন্দরগঞ্জের গোয়ালের ঘাট পয়েন্টে ১৩৪ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে ১৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘন্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে মাঝারি ধরণের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, পানি বাড়ায় তিস্তা, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হানিফ প্রামাণিক জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ায় তার ইউনিয়নে চৌমোহন, বুলবুলির চর, পূর্ব খাটিয়ামাড়ি, মধ্য খাটিয়ামাড়ি, উজানডাঙ্গাসহ দশটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফলে অন্তত দেড়শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। সেই সঙ্গে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন উজানডাঙ্গা গ্রামের অন্তত পঞ্চাশটি পরিবার। তাদের জামিজমা বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। উজানডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদী ভাঙ্গণের মুখে পড়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।
তিস্তার পানি বাড়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, পানি বেড়ে যাওয়ায় তার ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি বেসরকারিভাবে কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবারদের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/কেকে
