শনিবার সকাল থেকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া গোলচত্বরের চারপাশে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই যানজট নবাব সলিমুল্লাহ রোড, লিংক রোড, চাষাড়া বালুর মাঠ বাইপাস সড়ক, বিবি রোড, নারায়ণগঞ্জ-ফাকা পরাতন সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। বিশেষ করে বেসরকারী অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকজন বেশি দুর্ভোগে পড়ে। বেলা ২টার দিকে যানজট স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ভুক্তভোগিদের অনেকে জানান, যানজট নগরীর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিশেষ করে সকালে অফিস টাইমে এবং বিকেলে অফিস ছুটি হলে শহরের বিভিন্ন সড়কে ভয়াবহ রকমের যানজটের সৃষ্টি হয়। যার ফলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের পরে অফিসে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হয় কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের।
শনিবার নগরীর বিভিন্ন সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, নবাব সলিমুল্লাহ রোড থেকে চাষাড়া মোড় এবং চাষাড়া মোড় থেকে লিংক রোড পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে যানবাহন। দুই নং রেল গেট হতে চাষাড়া পুরো বঙ্গবন্ধু সড়কে অসহনীয় যানজট। খুব ধীরে ধীরে চলছে গাড়ি। নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের বিভিন্নস্থানে ছোট, বড় গর্ত। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে আরো যানজট তৈরি হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সড়কের দুইধারে অবৈধ গাড়ি পার্কিং যানজট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় একজন গুরুতর রোগীকে নিয়ে স্বজনদের ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকতে দেখা যায়।
অনেকক্ষণ ধরে জ্যামে বসে থাকার পর কোনো উপায় না পেয়ে রং রোডেই রিকশা করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে স্বজনদের।
দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা একজন রিকশাচালক সুমন বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যানজট বেশি থাকে। এই যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে পথচারী। মানুষ এলোমলো ভাবে রাস্তা পার হয়। যার ফলে চলন্ত গাড়িগুলোকে হঠাৎ থেমে থাকতে হয়। আর যানজটের সৃষ্টি হয়। তার উপর দিন দিন গাড়ির সংখা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রফিক পুলিশও তাদের ইচ্ছে মত কাজ করছে । যানজট থাকবে না কেন?’
অর্নাস ২য় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া বলেন প্রায় ৩০ মিনিট যাবৎ যানজটের কারণে বসে আছে। সময় মতো গন্তব্যস্থলে পৌছানো কখনোই সম্ভব হয় না। যে পথ পাড় হতে ১৫ মিনিট লাগে না সেখানে আধা ঘন্টার উপরে বসে আছি। আমার কলেজের পরীক্ষার পর আমি ব্যাচের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম কিন্তু মনে হচ্ছে না নির্দিষ্ঠ সময়ে যেতে পারবো।’
ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক শরফুদ্দিন বলেন, ‘বড় রকমের যানজট না থাকলেও রাস্তায় গাড়ির আধিক্য বেশি থাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় একটু ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। অফিস টাইমে এমন একটু আধটু থাকেই।’
ইত্তেফাক/নূহু
