রাজনীতি অর্থের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তিনশ আসনে লুটেরারা এমপি হতো

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫০
জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, রাজনীতি করতে হলে বিশ্বাস, মনের জোর ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার থাকতে হয়। বুকে সাহস নিয়ে রাজনীতি করতে হয়, অন্যের দয়ার ওপর ভর করে রাজনীতি হয় না। নিজের এলাকা নিজেকেই গড়তে হয়, অন্য কেউ গড়ে দেবে না। এই গড়ার জন্য অর্থ বড় বিষয় নয়। রাজনীতি যদি অর্থের কাছে আত্মসমর্পণ করতো তাহলে লুটেরারাই তিনশ’ আসনে এমপি থাকতেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জিনিজয়ান রেস্টুরেন্টে জেপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভায় সারাদেশ থেকে আগত দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি একথা বলেন।
 
সভায় সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বলছে-নির্বাচনের পরিবেশ নেই। পাকিস্তান আমলে কী পরিবেশ ছিল? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় কী পরিবেশ ছিল? ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও আমরাই (জেপি) প্রথম বলেছিলাম যে—আমরা বিপ্লবীও নই, বিদ্রোহীও নই, জেপি সবসময় নির্বাচনমুখী দল। সেজন্যই নিঃশর্তভাবে আমরা সেই নির্বাচনকে সমর্থন দিয়েছিলাম। নির্বাচনে কে   আসলো, কে আসলো না—এটা আমাদের পূর্বশর্ত নয়। এবারও আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ  করব। নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালু রাখতে এবং এই পথকে এগিয়ে নিতেই আমরা ১৪ দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ আছি। কারণ নির্বাচন না হলে নৈরাজ্য হবে, গণতন্ত্র আরও বাক্সবন্দি হবে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে কোথাও কোথাও সঠিকভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। তিনশ’ ভোট পাওয়ারও যাদের ক্ষমতা নেই তারা কোনো কোনো স্থানে অঙ্গুলি হেলনে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। এটা পরিস্থিতিকে সংকটময় করে তুলছে।
 
জেপি চেয়ারম্যানের উদ্বোধনী বক্তব্যের পর সারাদেশের ৬৮টি সাংগঠনিক জেলা থেকে আগত নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের বক্তব্যে জোট রাজনীতি, আগামী নির্বাচন ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কথা বলেন। তাদের বক্তব্যের ফাঁকে-ফাঁকে জবাব দেন জেপি চেয়ারম্যান, এরপর তিনি সমাপনী বক্তব্য দেন। এসময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জেপি নীতি-আদর্শের ওপর ভর করে রাজনীতি করে, এটা উদার ও নির্বাচনমুখী দল।
 
তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে জেপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রয়োজনে আমরা একা নির্বাচন করব, দরকার হলে সবগুলো আসনে হারব; তবুও আমরা নির্বাচন বয়কট করব না। ২০১৪ সালেও জেপি নিজেদের প্রতীক ‘সাইকেল’ মার্কায় নির্বাচন করেছে, আগামীতেও আমরা নিজেদের প্রতীকেই নির্বাচন করব।
 
বর্ধিত সভায় জেপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিতে জনগণের ক্ষমতায়ন দরকার। সামনে নির্বাচন, সেখানে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। যারা নির্বাচন বয়কটের কিংবা নির্বাচন প্রতিহত করার হুমকি দেন তাদের মনে রাখা দরকার-শর্ত দিয়ে নির্বাচন হয় না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ধারণাটি কারা নষ্ট করেছে সবার জানা। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা দেয়া জাতি, দেশ কিংবা কারও জন্যই নিরাপদ নয়।
 
বর্ধিত সভায় শেখ শহীদ দলের বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, দেশে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। সর্বগ্রাসী দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় জেপির ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সভায় উপস্থিত নেতারা এসব প্রস্তাব সমর্থন করেন। একইসঙ্গে যেসব উপজেলায় এখনও দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি, নির্বাচনের আগেই সেসব কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
 
সভায় সমাপনী বক্তব্যে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, উত্থাপিত প্রস্তাবনা এবং এই বর্ধিত সভায় জেলা নেতাদের বক্তব্যে যেসব মতামত উঠে এসেছে সেগুলোর সমন্বয়ে দলের আগামী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। দলের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে আলোচনা সাপেক্ষে সেটা চূড়ান্ত করা হবে। সভা পরিচালনাকারী ও জেপি’র নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী বলেন, জেপি লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। নীতি-আদর্শে এই দল পরিচালিত হয়। আগামী নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের মর্যাদার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। ১৪ দলের ঐক্য অটুট রাখার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করাও এখন সময়ের প্রয়োজন। সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, আবদুর রহিম, মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, রুহুল আমিন এমপি, কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ মল্লিক, জয়নাল আবেদীন, শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, আবু সাঈদ খান ও নাজমুন নাহার বেবী উপস্থিত ছিলেন। সভায় খুলনা জেলার আবদুল মজিদ, খাগড়াছড়ির নিরাপদ তালুকদার, টাঙ্গাইলের আব্দুল্লাহ আল চাকলাদার, মাদারীপুরের এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরীর আজাদ দোভাস, রাজশাহীর সৈয়দ সালাউদ্দিন, মাগুরার ফতেহ আলী টিপু, বাগেরহাটের শহিদুল ইসলাম, মেহেরপুরের আবদুল হালিম, নীলফামারীর খয়রাত হোসেন শাহ, নওগাঁর সাইদুর রহমান বকুল, নরসিংদীর ওসমান গণি, কুড়িগ্রামের মঞ্জুরুল হক, লক্ষ্মীপুরের মো. আব্দুল্লাহ ও কুমিল্লা জেলার শামসুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু