ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে ‘ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কেন্দ্র, জেলা ও তৃণমূল শাখাসমূহে পরিষদ ১৫ দিনব্যাপী বহুমুখী কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে। গতকাল রবিবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় সংগঠনটি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডিরেক্টর লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকছুদা আখতার।
আয়শা খানম বলেন, নারীরা পাহাড়ের চূড়ায় উঠা থেকে শুরু করে আইলা মোকাবিলা করছে। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে নানা চ্যালেঞ্জিং পেশায় অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি একটি বিপরীত চিত্রও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে মনস্তত্ত্ব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন। ইতিহাস, দর্শন, শিক্ষা কারিকুলাম নারীর প্রতিকূলে। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নও নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। রাষ্ট্র আপসহীন এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ না করলে সমাজের ভিতরের এই অবক্ষয় রুখে দাঁড়ানো যাবে না। এক্ষেত্রে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, গণমাধ্যমকে আরো সজাগ থাকতে হবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ক্ষেত্রে আমরা ১৯২৯ সাল থেকে পিছিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ ২০১৭ সালের ১৪ টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার পেপার ক্লিপিং-এর তথ্য নিয়ে বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্রের একটি সমীক্ষা করেছে। সমাজকে অগ্রসর করতে হলে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাড. মাকছুদা আখতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা, প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা, হাইকোর্ট বিভাগের রায়, নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সুপারিশমালা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১৮ টি সুপারিশ তুলে ধরেন।
যার মধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার নারীকে দায়ী করার মানসিকতা পরিহার করা, হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে ঘটনাস্থলকে মুখ্য বিবেচনা না করে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন বা এ ধরনের আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনায় কোনো বৈষম্য, বিলম্ব ছাড়াই তাত্ক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা,ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে ধর্ষণের শিকার নারীর পাশে দাঁড়ানো এবং তার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, চিকিত্সাসহ ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করা, নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়, প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করা, অপরাধীকে চিহ্নিত করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট এবং আইনের আওতায় আনা, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
