মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রাজা সিতারাম রায়ের রাজ বাড়িটি আজও মানুষকে আকর্ষণ করে। তাই রাজবাড়িটি দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করে সেখানে।ধ্বংস প্রায় বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংস্কার করার পর বাড়িটি নতুন চেহারা পেয়েছে।
জানা যায়, মাগুরা জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মহম্মদপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত রাজা সিতারাম রায়ের রাজ বাড়ি। মধুমতি পাড়ে অবস্থিত উপজেলা সদরে সপ্তদশ শতাব্দীতে স্বাধীন চেতা ও প্রজাবৎসল রাজা সীতারাম রায় তার রাজধানী স্থাপন করেন। রাজা সীতারাম আজ নেই, নেই কোন রাজ-কর্মচারী, সৈন্য-সামন্ত, পাইক-পেয়াদা। নেই কোন কর্মচাঞ্চল্য কোলাহল। শুধু কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাড়িয়ে রয়েছে রাজপ্রাসাদ, কাচারীবাড়ি , দোলমঞ্চ, পুকুর সহ অসংখ্য জলাশয় গুলো।
রাজা সীতারামের বাবা উদয় নারায়ণ রায় ছিলেন তৎকালীন ভূষণা রাজ্যের উচ্চ পদস্থ কর্মচারী। সে সুবাদে ছোট বেলা থেকেই রাজা সীতারামের যাওয়া আসা ছিল রাজ দরবারে। তিনি নিজ যোগ্যতায় যুদ্ধবিদ্যা, রাজকার্য, অশ্বচালনা রপ্ত করেছিলেন। বাবা উদয় নারায়ণ মহম্মদপুরের শ্যামনগরে জোত বন্দোবস্ত নিয়ে মধুমতি পাড়ের হরিহর নগরে বসতি স্থাপন করেন।
ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগে সীতারাম সাতৈর পরগণার বিদ্রোহী পাঠান করিম খাঁকে শায়েস্তা করার পুরস্কার স্বরূপ ভূষনা রাজ্যের নলদী পরগনার জায়গীরদার নিযুক্ত করেন। সুবেদার শায়েস্তা খা তাকে রাজা উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে দিল্লির বশ্যতা অস্বীকার করলে বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খা রাজা সীতারামকে শায়েস্তা করতে সেনাপতি আবু তোরাবের নেতৃত্বে সৈন্য প্রেরণ করেন। এ যুদ্ধে তোরাব নিহত ও নবাব বাহিনী পরাজিত হয়। এরপর ক্ষিপ্ত নবাব সেনাপতি দয়ারাম ও বক্স আলী খাঁর নেতৃত্বে পুনরায় বিশাল সৈন্যদল পাঠান। বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করার একপর্যায়ে রাজা সীতারাম পরাজিত ও নিহত হন। রাজা সিতারাম রায়ের রাজ বাড়ি কাচারি বাড়িটি আজও মানুষকে আকর্ষণ করে। সংস্কারের অভাবে রাজবাড়িটি ধ্বংস হতে বসেছিল। কয়েকবছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটি সংস্কার করার পর বাড়িটি নতুন চেহারা পেয়েছে। তাই রাজবাড়িটি দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করে। মুগ্ধ হয় বাড়িটি দেখে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
