উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারতীয় ত্রাণ বিতরণকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি বলেছেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গার সংকট সমাধানে ভারত সরকার আমাদের পাশে থাকবে। ভারতের জনগণ আজকের ত্রাণ সহায়তাসহ রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য তৃতীয় দফা ত্রাণ সহায়তা করলেন। এর পূর্বে দুইবার তারা শিশু খাদ্য, চাল ডাল, বর্ষাকালে রেইনকোর্ট, গামবুটসহ বিভিন্ন ত্রান সামগ্রী দিয়ে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করেছেন। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভারতীয় হাইকমিশনারের আগমন উপলক্ষে কক্সবাজার শরনার্থী ত্রাণ ও পূনর্বাসন কমিশনার কর্তৃক আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্টানে মন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষকে ভারত সরকার মানবিক সহায়তা প্রদান করে এ পর্যন্ত অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছে। এ জন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তৃতীয় দফায় আজ ভারত সরকার রোহিঙ্গা জনগনের জন্য ১১ লাখ লিটার কেরোসিন তৈল, ২০ হাজার কেরোসিন স্টোভ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এ তৈল ২০ হাজার পরিবারকে দেওয়া হবে। এতে তাদের ৫ মাসে জ্বালানির চাহিদা মিটবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংকট সমাধান করতে পেরেছি। কিন্তু জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকারকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানালে তারা জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ করতে এগিয়ে আসেন। এরই মধ্যে এলপিজি গ্যাস, কাঠকলের তুষ, ধানের তুষ ইত্যাদি দিয়ে এ সমস্যা একটি সুষ্ট সমাধানের চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে রোহিঙ্গাদের জ্বালানি হিসাবে গাছ পালার উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
এ সময় মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়তা প্রদান, বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ, এক্সরে মেশিন ও শীতবস্ত্র সরবরাহ করলে রোহিঙ্গা ও রোহিঙ্গাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা উপকৃত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতের হাইকমিশনার শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সেবা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসাবে ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের সবধরনের সহায়তা প্রদানে আন্তরিক। ২০১৭ সালে ৪ লাখ খাবারের প্যাকেট ও ২০১৮ সালে বর্ষা মৌসুমে শুটকি ও গুড়োদুধসহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী রোহিঙ্গাদের দেওয়ার জন্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলায় ২৫০টি বাড়ী নির্মান করেছে। ২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশে আশ্রীত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারত সরকার উদ্যোগ গ্রহন করে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে আগের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে সে ব্যাপারে বাংলাদেশের পাশে থেকে ভারত সরকার কাজ করবে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্টানে বক্তব্য রাখেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শাহ কামাল, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার।
অনুষ্টান পরিচালনা করেছেন, কক্সবাজার ত্রাণ ও পূর্নবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম। পরে অতিথি বৃন্ধুরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে কুতুপালংয়ে আশ্রীত হিন্দু রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
