সাইনবোর্ড, দপ্তর, আসবাবপত্র সবই আছে, নেই শুধু কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় জনবল। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে শরণখোলা উপজেলা খাদ্য অফিসে খাদ্য কর্মকর্তাসহ কোন কর্মচারীর পোস্টিং হয়নি। উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে খাদ্য অফিসের অতি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ করে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে শরণখোলা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বদলী হয়ে যাবার পরে আর কোন কর্মকর্তা এখানে আসেনি। ওই অফিসের দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান রায়েন্দা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবদূত রায়। খাদ্য অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় মানুষ ওই অফিসে গিয়ে যথা সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা খাদ্য অফিসে অনুমোদিত ৫ জন জনবলের মধ্যে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা , খাদ্য পরিদর্শক, উপ খাদ্য পরিদর্শক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, এবং একজন এমএলএসএস। কিন্তু দীর্ঘ ৪ বছর ধরে ওই অফিসে কাউকেই পোস্টিং দেয়া হয়নি।
অন্যদিকে রায়েন্দা খাদ্য গুদামে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় গুদামের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। এ গুদামে ১জন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ১ জন নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে কাজ চলছে। শূন্য রয়েছে উপ খাদ্য পরিদর্শক ও ২ জন নিরাপত্তা প্রহরীর পদ।
IMG0
উপজেলার রায়েন্দা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবদূত রায় জানান, রায়েন্দা খাদ্য গুদামে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ডিলারসহ সংশ্লিষ্টদের চাল গম ডেলিভারি ও খাদ্যশস্য গুদামজাত করনে খুবই সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলা খাদ্য অফিসে কেউ না থাকায় ওই অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপও তাকে সামলাতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস বলেন, উপজেলা খাদ্য অফিস ও গুদামের জনবলের পদ শূন্য থাকায় সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি তিনি জানেন এবং এ ব্যাপারে আশু সমাধানে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম শহীদুল হক বলেন, বাগেরহাট জেলার ৯ উপজেলার ৩টিতে খাদ্য কর্মকর্তা থাকলেও ৬ উপজেলায় কোন কর্মকর্তা নেই। খাদ্য বিভাগে জনবল সংকট থাকায় উপজেলা সমূহে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা কর্মচারী পোস্টিং দেয়া হচ্ছেনা। শিগগিরই কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ হবে। সেখান থেকে হয়তো আমরা কিছু জনবল পাবো।
ইত্তেফাক/বিএএফ
