ব্রহ্মপুত্রে বিপদসীমার ৭ সে.মি. ওপর পানি, ২১ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৪০
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদ, জেলা শহরের ঘাঘট নদী, গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া, কাটাখালী ও সুন্দরগঞ্জের তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদে। এতে তিস্তা, ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্রের চর ও নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে ১ হাজার ১শ হেক্টর কৃষি জমি। পাশাপাশি দেখা গিয়েছে নদী ভাঙ্গন। ফুলছড়ির হাড়ুডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া ঘাঘট, গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া, কাটাখালী, সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদ-নদীগুলোতে আরও পানি বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
 
ইতিমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্নাঞ্চল কাউয়াবাঁধা, পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর, চন্দনসার, পশ্চিম খাটিয়ামারী, পূর্ব খাটিয়ামারী, উত্তর খাটিয়ামারী, তিনথোপা, পাগলার চর, বুলবুলি, উত্তর হরিচন্ডি, পশ্চিম ডাকাতির চর, আগলার চর, পশ্চিম জিগাবাড়ী, ধলি পাটাধোয়া, গলনা, ভাজনডাঙ্গা, কালাসোনা, কাবিলপুর, রতনপুর, সাতারকান্দি, পূর্ব কঞ্চিপাড়াসহ ২১ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 
 
ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান জানান, নদী ভাঙ্গনে ইউনিয়নের জিগাবাড়ী, ভাটিয়াপাড়া ও সন্ন্যাসীর চর এলাকার শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে পড়েছে। ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হানিফ জানান, তার ইউনিয়নের উজালডাঙ্গা, চৌমহন, কৃষ্ণমনি, বাজেতেলকুপি, মধ্য খাটিয়ামারী ও পূর্ব খাটিয়ামারী এলাকার ২শত পরিবার নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। চেয়ারম্যানগণ গৃহহীন পরিবারের জন্য আশ্রয় ও খাদ্য প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান। এদিকে ফুলছড়ির হাড়ুডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। কাইয়ারহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি উঠেছে। 
 
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রুহুল আমীন জানান, জেলার তিনটি উপজেলার চরাঞ্চলের কিছু জমি পানিতে ডুবে গেছে। এবার সময়মতো বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা সেসব জমিতে ধান ও শাকসবজি চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৭২০ হেক্টর, ফুলছড়ি উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর এবং সাঘাটা উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। তবে পানি দীর্ঘস্থায়ী না হলে ফসলগুলো রক্ষা পাবে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলেও কৃষকদের হাতে যথেষ্ট চারা থাকায় আবারও ধান ও শাকসবজি চাষ সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
 
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান, বন্যায় মানুষের জানমাল রক্ষাসহ সকল ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। 
 
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম হোসেন বলেন, ভাঙ্গন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জরুরী ভিত্তিতে বিভিন্ন পদক্ষপে গ্রহণ করা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু