আদালতে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার স্বামীর

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২৯
যৌতুকের জন্য নাজমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী সঞ্জু মিয়াকে গ্রেফতার করের। এরপর নেত্রকোনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। স্ত্রী নাজমা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী সঞ্জু মিয়া আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি দিয়েছেন। 
 
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বেজগাঁও গ্রামে ওই গৃহবধূ নাজমা আক্তারের বাবার বাড়ি। তিনি ওই গ্রামের মৃত আমির হোসেনের কন্যা। চলতি বছরের ১২ জুন একই উপজেলার দলপা ইউনিয়নের ভাদেড়া গ্রামের স্বামীর বাড়িতে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটে।
 
ঘটনার আট-নয় মাস আগে ভাদেড়া গ্রামের আব্দুস ছোবানের ছেলে সঞ্জু মিয়ার সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে তার বিয়ে হয়। এই বিয়ে নাজমা ও সঞ্জু মিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে।
 
নাজমা আক্তারের মা ও মামলার বাদী বেগম আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই সঞ্জু মিয়া তার মেয়ে নাজমাকে যৌতুকের টাকার জন্য নানাভাবে অত্যাচার করতো। করতো শারীরিকভাবে নির্যাতনও। ঘটনার দিন যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার করায় সঞ্জু মিয়া নাজমা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 
 
এদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কেন্দুয়া থানার প্রধান কর্মকর্তার হাতে আসে। রিপোর্টে গৃহবধূ নাজমাকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা উল্লেখ থাকায় পুলিশ ওই দিনই নাজমার স্বামী সঞ্জু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। 
 
এ ঘটনায় নাজমা আক্তারের মা বেগম আক্তার বাদী হয়ে নাজমার স্বামী সঞ্জু ও তার দুই ভাইকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 
 
সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রাজ্জাক জানান, গ্রেপ্তারকৃত সঞ্জু মিয়াকে আদালতে পাঠালে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সঞ্জু মিয়া স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। মামলার অপর দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
 
ইত্তেফাক/নূহু