হাটহাজারীতে স্কুলছাত্রী হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৩৪
চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে স্কুলছাত্রীর ঘাতক শাহনেওয়াজ মুন্নার ফাঁসির দাবিতে তৃতীয় দিনও বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসীসহ উপজেলার বিভিন্ন সংগঠন। বুধবার সকাল এগারটার দিকে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ উপজেলা শাখা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ উপজেলা পরিষদের সামনে এ কর্মসূচী পালন করে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা তুহিনের হত্যাকারী খুনি মুন্নাকে ফাঁসি দেওয়ার জোর দাবি জানান।
 
বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন চলাকালে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে এক ঘন্টার অধিক সময় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় আটকে পড়া জনসাধারণকে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে দেখা গেছে। পরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদকারীরা খুনির কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এদিকে হাটহাজারী সরকারী কলেজের শির্ক্ষাথীদের অংশগ্রহনে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চেয়েছিল। মডেল থানা পুলিশ তাদের রাস্তায় নামতে দেওয়া হয়নি বলে জানান হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর।
IMG0
এর আগে সোমবার এবং মঙ্গলবারও এ নির্মম হত্যার বিচার ও খুনি মুন্নার ফাঁসির দাবিতে তুহিনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। 
 
খুনি শাহনেওয়াজ মুন্না (২৩) পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহাজান ও নিগার সুলতানার পুত্র। এদিকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে দেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন হাটহাজারী সমিতি মানববন্ধন করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
 
সোমবার বিকালে মামলার প্রধান আসামি শাহনেওয়াজ মুন্না স্কুলছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিনকে (১৩) ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৬৪ ধারায় মুন্না জবানবন্দী দিলে আদালত তা রেকর্ড করেন। জবানবন্দীতে মুন্না বলে, তার সঙগে প্রায় এক বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল তুহিনের। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় উভয়ের বাসায় কেউ না থাকায় তুহিনকে নিজের বাসায় ডেকে নেয় মুন্না। সেখানে উভয়ের সম্মতিতে শারিরীক সম্পর্ক হয় বলে সে জবানবন্দীতে দাবি করে। পরে দুজনের মধ্যে কাটাকাটির এক পর্যায়ে তুহিন চিৎকার করতে চাইলে তুহিনের মুখ ও গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে খুনি মুন্না।
 
এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নিজের বাসার সোফার নিচে লুকিয়ে রাখে। লাশে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে ঘটনাটি ফাঁস হয় এবং রবিবার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। 
 
ময়না তদন্ত শেষে সোমবার উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নে গ্রামের বাড়িতে আছরের নামাজের পর জানাযার নামায শেষে পারিবারিক করবস্থানে তুহিনকে দাফন করা হয়।
 
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর জানান, মাললার পলাতক আসামিদের আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু