ঝিনাইগাতীতে দুর্ভোগের আরেক নাম বনগাঁও-আহমদনগর রাস্তা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৬
ঝিনাইগাতীতে দুর্ভোগের আরেক নাম বনগাঁও-আহমদনগর রাস্তা। উপজেলার বনগাঁও বাজার থেকে চতল গ্রাম হয়ে সদর ইউনিয়নের আহমনগর পর্যন্ত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫কি.মি.। জানা যায়, উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও বাজার থেকে আহমদনগর পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মানের দাবি ওঠে দেশ স্বাধীনের পর থেকে। আজো তা নির্মান হয়নি।
 
আহমদনগর গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু, চতল গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মন্ডল, সাবেক ইউপি সদস্য চাঁন মিয়াসহ গ্রামবাসীরা জানায়, রাস্তাটি নির্মানের জন্যে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাসও পাওয়া যায়।
 
এ রাস্তা দিয়ে জিগাতলা, বনগাও, সুড়িহারা, হাতিবান্দা, রামনগর, চতল, আহমনগর, দিঘীরপাড়, হলদিবাটা ও মাটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশত মানুষ চলাচল করে থাকে। এখানে রয়েছে ১টি কলেজ, ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি দাখিল মাদ্রাসা ও ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছরেও এ রাস্তাটি সংস্কার, সম্প্রসারণ কিংবা পাকাকরণ হয়নি। 
 
গ্রামবাসীরা জানায়, এ রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে যানবাহন তো দূরের কথা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। শুষ্ক মৌসুমে যেমন-তেমন, বর্ষা মৌসুমে পথচারীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।  ৫কি.মি. রাস্তায় ৪টি খাল ও ১টি নদী রয়েছে। ২০১৭ সালে একটি ভাঙ্গা অংশে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থে একটি ব্রিজ নির্মান করা হলেও দুইপাশে মাটি ভরাটের অভাবে তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। অন্যান্য স্থানে আজো নির্মিত হয়নি ব্রিজ-কালভার্ট। খালগুলোর ওপর বিভিন্ন সময় কাঠের সেতু নির্মাণের অজুহাতে হয়েছে সরকারী অর্থ লুটপাট। 
 
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন পূর্বে ২টি ভাঙা অংশে কাঠের সেতু ও ১টিতে বাঁশের সাঁকো নির্মান করা হলেও তা চলাচলের অনুপযোগী। জরাজীর্ণ এসব বাশেঁর সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু-কিশোরসহ পথচারীরা। রাস্তার বেহাল দশার কারনে কৃষকরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছে না। রাস্তাটি ১০ গ্রামের মানুষের সীমাহীন কষ্ট আর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
 
উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা রাস্তাটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি।
 
উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তা ও ভাঙ্গা অংশে ব্রিজ নির্মানের জন্যে ওপর মহলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই রাস্তাটির নির্মান কাজ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু