রামগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগে অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় ভিক্ষুককে পিটিয়ে আহত

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১২
বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় একই গ্রামের হজি বাড়ির মৃত আবুল কালামের বিধবা স্ত্রী ও ভিক্ষুক আনোয়ারা বেগমকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নে। অভিযোগ ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিটনের বিরুদ্ধে। সে ওই বৃদ্ধাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারত্মক আহত করে ঘরের সামনে ফেলে যায়। পরে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার দিবাগত রাতে ওই ভিক্ষুকের বসত ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে আজ বিকেলে আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড শিবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ লিটন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে এলাকার অর্ধশতাধিক লোকের নিকট থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে। শিবপুর হজি বাড়ির জাকির হোসেন, আকবর হোসেন, জসিম,  আবু মিয়া, বাসু মিয়া, দুধ মিয়া, মাসুদ আলম, আনোয়ার হোসেন, নসু মিয়াসহ ১২জনের কাছ থেকে প্রথম ধাপে বিদ্যূতের খুটি দেওয়ার নামে ১ লাখ ৩০ হাজার এবং পরবর্তিতে  মিটারের জন্য ৬ হাজার টাকা করে আদায় শেষে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়।  কিন্তু ওই ভিক্ষুক বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম অনেক কষ্টে ধার দেনা করে ৫ হাজার টাকা দিলেও ১ হাজার টাকা কম দেওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখে লিটন। পরে আনোয়ারা বেগম তার রামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমের কাছে নালিশ করেন। এতে লিটন ক্ষিপ্ত হয়ে  আনোয়ারা বেগমকে গত সোমবার রাত ৯টায় ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি শেষে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফেলে যায়।
 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম জানান, ১০ বছর পূর্বে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ৬ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মানুষের বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করে অনেক কষ্টে চলছি। লিটন মেম্বার প্রথমে পিলার দেওয়ার জন্য বাড়ির সবার কাছ থেকে যৌথ পুকুর লিজ লাগিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয়। পরে মিটারের জন্য ৬ হাজার টাকা করে দাবি করে। বাড়ির সবাই দিলেও আমি অনেক কষ্ট করে ধার দেনা করে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। ১ হাজার টাকা না দেওয়ায় আমাকে মিটার দেন নাই, তাই আমি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছি। এ জন্য লিটন মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মেরে মারাত্মক আহত করেন।
 
মেম্বার মোঃ লিটন জানান, মহিলাটি খুব অসহায় বিধায়, পুর্বে ১শ মিটারের জন্য আবেদন করার সময় এমপির ডিও লেটার নিয়ে এমপির পিএস ফরিদ বাঙ্গালীকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। তখনও এ মহিলার কাছ থেকে কোন টাকা নিইনি। এখন মিটারের জন্য শুধু ২ হাজার টাকা নিয়েছি। মারধর করার বিষয়টি সত্য নয়।
 
রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়া জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু