বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ওঠায় গাইবান্ধার চার উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নদী ভাঙনের কারণে ফুলছড়ির এরন্ডাবাড়ী ও হাড়ুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেলার সবক’টি নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অপরিবর্তিত থাকলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দুই সে:মি: বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১৩হাজার পরিবার ও নদী ভাঙনে দুই সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ১৮শ' হেক্টর আমন ক্ষেত।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মণ্ডল জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠে পানি ওঠায় ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৩৪টি, ফুলছড়িতে ২২টি, সাঘাটায় ১০টি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৫টি। এছাড়া নদী ভাঙনের হুমকির মুখে ফুলছড়ির এরন্ডাবাড়ী ও হাড়ুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
IMG0
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, গত কয়েকদিনে তিস্তার প্রবল স্রোতে ভাঙনের কবলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সুন্দরগঞ্জের ভাটি কাপাসিয়া চরে সরকারি অর্থে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিভাগ অংশ। এতে এই প্রকল্পে আশ্রয় পাওয়া ১৮০টি পরিবারের মধ্যে ৩৫টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পরেছে।
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানান, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামের ১২ হাজার ৮১০টি পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বিশুদ্ধ পানি, খাবারসহ সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া এ পর্যন্ত এই ৪ উপজেলায় নদীভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ২ হাজার ১৬৫ পরিবার। তাদেরকে শিগগিরই সকল ধরণের সহায়তা প্রদান করা হবে।
IMG1
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ ছাড়া বাকী সব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি পদক্ষেপসহ সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রুহুল আমীন বলেন, বন্যায় গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় ১৭শ' ৬৮হেক্টর জমিসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। তারমধ্যে আমন ধান ১৭শত ৩২ হেক্টর, বীজতলা ২১ হেক্টর ও শাকসবজি ১৫ হেক্টর।
তিনি আরো বলেন, দ্রুত পানি কমলে এসব ফসলের তেমন কোনও ক্ষতি হবে না।
ইত্তেফাক/বিএএফ
