সুজানগরে ধ্বংসের পথে আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৩৫
সুজানগরের জমিদার আজিম চৌধুরী না থাকলেও আছে তার কর্মযজ্ঞের স্মৃতি ও নাম। প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে উপজেলার দুলাই গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন জমিদার আজিম চৌধুরী। তিনি ছিলেন সৌখিন এবং সৌন্দর্যের পূজারী জমিদার। আর তাইতো যখন এ দেশে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা ছিল কোনো প্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণের মতো, ঠিক সে সময় জমিদার আজিম চৌধুরী দুলাই’র মতো নিভৃত পল্লিতে প্রতিষ্ঠিত তার বাড়িতে নির্মাণ করেন রাজপ্রাসাদতুল্য দ্বিতলবিশিষ্ট একাধিক দৃষ্টিনন্দন এবং বিলাসবহুল ভবন। অত্যাধুনিক ডিজাইনের ওই ভবনগুলো ছিল বহু দুয়ারী এবং বহু কক্ষের। এছাড়া ১২০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ওই বাড়িটিতে ছিল ১১টি নিরাপত্তা গেট।
 
প্রথম গেটে সর্বদা দণ্ডায়মান থাকতো বিশাল আকৃতির দু’টি হাতি। হাতি দু’টি জমিদার বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীর কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও জমিদার আজিম চৌধুরীর ভ্রমণ কাজে ব্যবহূত হতো। বাড়ির নিরাপত্তা বিধানে হাতি ছাড়াও ছিল দু’টি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কামান। পাশাপাশি বাড়ির চতুষ্পার্শ্ব ঘিরে খনন করা হয়েছিল বিশাল নিরাপত্তা দীঘি। গোটা বাড়িটি ছিল দেশি-বিদেশি গাছপালায় আবৃত্ত। বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন অগণিত পর্যটক। বর্তমানে এ বাড়ি ধ্বংসের পথে। তারপরও স্থানীয় পর্যটকরা জমিদার আজিম চৌধুরীকে স্মরণ করতে তার ধ্বংসাবশেষ বাড়িটি দেখতে ভিড় করেন। বিশেষ করে বর্ষা এবং শীতের মৌসুমে স্থানীয় পর্যটকরা বাড়িটিতে এসে বনভোজন করেন।
 
জমিদার আজিম চৌধুরীর কর্মযজ্ঞের স্মৃতিকে আরো স্মরণীয় করে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়িটিকে পরিকল্পিত এবং দৃষ্টিনন্দন একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে চৌধুরী পরিবারের প্রতি আহবান জানান এলাকার শিক্ষাবিদ গোলাম রসূল।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত্ দেবনাথ বলেন, জমিদার আজিম চৌধুরীর বাড়ি সুজানগরের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের অংশ। কাজেই চৌধুরী পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বাড়িটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে পর্যটন কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আজিম চৌধুরীর বংশধর আহসান জান চৌধুরী বলেন, বাড়িটিকে ঘিরে বহুমুখী পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেটি বাস্তবায়ন করতে একটু সময় লাগবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু