প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের দেশ শ্রীলঙ্কার গির্জা ও অভিজাত হোটেলে নারকীয় হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। হামলার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ না দেওয়ায় তাদের দাবি নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। শ্রীলঙ্কাও মনে করছে, আন্তর্জাতিক বড় শক্তির সহায়তা ছাড়া একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর পক্ষে এত বড় হামলা চালানো সম্ভব নয়। হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিরোধ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রবিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতদের মধ্যে পৌনে চারশ’ হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। শোকে স্তব্ধ শ্রীলঙ্কায় গতকাল নিহতদের গণশেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই শ্রীলঙ্কা যাচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে এক আত্মঘাতীকে গির্জায় ঢুকে হামলা চালাতে দেখা গেছে।
আইএসের দাবি নিয়ে সংশয়
নিজস্ব বার্তা সংস্থা ‘আমাক’ এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কায় খ্রিস্টানদের পবিত্র দিবস ইস্টার সানডেতে হামলা চালিয়ে তিন শতাধিক মানুষকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আইএস। তবে এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি জঙ্গি সংগঠনটি। একটি নিরাপত্তা সূত্র ‘আমাক’কে জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল সিরিয়ায় বিমান হামলায় যুক্ত মার্কিন জোটভুক্ত দেশগুলোর নাগরিক এবং খ্রিস্টানরা। এর আগে আইএসের কয়েকজন সদস্য তাদের ছবি প্রচার করে। এতে আবুল মুক্তার, আবু উবায়দা এবং আবুল বাররা ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের পেছনে আইএসের কালো পতাকা। তবে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। আইএস দায়িত্ব স্বীকার করলেও রহস্য শেষ হয়নি। কারণ এর আগে আইএস অনেক হামলার দাবি করেছিল যেগুলো ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে দাবি করেছেন, হামলার সঙ্গে বিদেশি শক্তি জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো এ ঘটনার সাথে ইসলামিক স্টেটের হামলার ধরণের মিল আছে বলে জানিয়েছে। যদিও আইএস সাধারণত তাদের হামলাগুলোর বিষয়ে দ্রুতই দায়িত্ব স্বীকার করে। যদিও শ্রীলঙ্কায় হামলার দায়িত্ব স্বীকার করলো তিনদিন পর।
মার্কিন প্রভাবশালী মিডিয়া সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিটার বার্গেন লিখেছেন, এ ধরনের হামলা কেবল আইএসই করে তা নয়। ২০১০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গির্জায় হামলা চালিয়ে ৫৮ জনকে হত্যা করেছিল আল-কায়েদা। চার বছর আগে জর্ডানের আম্মানে বিলাসবহুল হোটেলে আল-কায়েদার হামলায় ৫৭ জন নিহত হয়েছিল।
তদন্তে সহায়তা করবে এফবিআই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সাথে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এজেন্ট পাঠানো হচ্ছে শ্রীলঙ্কায়। তারা ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে।
সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও প্রকাশ
সিএনএনে প্রচারতি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারীদের একজন ভারী ব্যাগ বহন করছে পিঠে। সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় প্রবেশের আগে সে একটি শিশুর মাথা স্পর্শ করছে। ওই গির্জায় অনেকেই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। -বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএন
