দুর্নীতির অভিযোগে মোদির পদত্যাগ দাবি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:০৭
ফ্রান্সের সঙ্গে একটি সামরিক বিমান চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে পদত্যাগের দাবির সম্মুখীন হয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া অল্যাদ বলেছেন, ওই চুক্তিতে স্থানীয় এক অংশীদারের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করেছিল নয়াদিল্লি সরকার। এরপর থেকেই মোদির পদত্যাগের দাবি ওঠে রাজনৈতিক মহলে।
 
মোদি সরকার ২০১৬ সালে ফ্রান্সের দাসোল্ট এভিয়েশনের কাছ থেকে ৮৭০ কোটি ডলার সমমূল্যের ৩৬টি রাফাল সামরিক বিমান ক্রয় করে। বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদরা বলছেন, বিমানগুলোর জন্য মোদি অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেছেন এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখেননি।
 
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, রাফাল চুক্তিতে ভারত সরকার বহু বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতকারক কোম্পানি রেখে অনিল আম্বানির ‘রিলায়েন্স ডিফেন্স’কে ভারতের অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুক্রবার ফ্রাসোয়া অল্যাদ বলেন, রিলায়েন্সকে ভারতের অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য দাসোল্টের ওপর চাপ দিয়েছিল ভারত সরকার।
 
অল্যাদ ফরাসি সংবাদ মাধ্যম মিডিয়াপার্টকে বলেন, আমাদের হাতে কোন উপায় ছিল না। ভারত সরকারই প্রস্তাব দিয়েছিল দাসোল্ট অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে অনিল আম্বানির গ্রুপের চুক্তি করার ব্যাপারে। আমাদের ওই সময় কিছু করারও ছিল না। যে পার্টনার দেওয়া হয়েছিল আমাদের ভারত সরকারের তরফ থেকে, তার সঙ্গেই কাজ করতে হয়েছে। 
IMG0 
ভারতীয় প্রতিরক্ষা আসাদন নিয়ম অনুসারে, কোন বিদেশী সংস্থাকে কোন চুক্তির ৩০ শতাংশ ভারতে বিনিয়োগ করতে হবে। আর এজন্য ভারতীয় অংশীদার হিসেবে ফরাসি সংস্থা দাসোল্ট, রিলায়েন্সকে নির্বাচিত করে, রাষ্ট্র পরিচালিত হিন্দুস্তান অ্যারোনওটিকস লিমিটেডকে নয়। 
 
অল্যাদের মন্তব্য প্রকাশের পর বিরোধীদল কংগ্রেস পার্টির সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে বন্ধ দরজার পেছনে আলোচনা করেছেন এবং রাফাল চুক্তি পরিবর্তন করেছেন। ফ্রাসোয়া অল্যাদের সুবাদে আমরা এখন জানি তিনি(মোদি) ব্যক্তিগতভাবে কোটি কোটি ডলারের চুক্তি অনিল আম্বানিকে দিয়েছেন। 
 
রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। 
 
জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, অল্যাদের বক্তব্য প্রকাশের পর মোদির ক্ষমতায় থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই।
 
মোদির সমালোচনা করতে বাদ যায়নি ছোট দলগুলোও। এই বিষয়ে জানতে চেয়ে মোদির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোন সাড়া পায়নি রয়টার্স। এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক টুইটে লিখেছে, অংশীদার নির্বাচনে ফরাসি বা ভারতীয় সরকারের কিছুই করার ছিল না। এই বিষয়ে জানতে চেয়ে রিলায়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকেই কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
 
এদিকে, দাসোল্ট অল্যাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নীতি মেনেই দাসোল্ট অ্যাভিয়েশন ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে পার্টনারশিপ ব্যবসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়।
 
অপর একটি বিবৃতিতে ফরাসি সরকার জানায়, রাফাল চুক্তিতে ভারতের অংশীদারি সংস্থাকে পছন্দ করার ব্যাপারে ফরাসি সংস্থাগুলির সমস্তরকম স্বাধীনতা আছে। -রয়টার্স
 
ইত্তেফাক/ জেআর