নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোপালপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি কুচক্রি মহল গ্রামের মধ্যে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার শিকার হয়ে ওই গ্রামের কয়েকটি পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এলাকাবাসী জানায়, বেশ কয়েক বছর ধরে গোপালপুর আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা বিমল উরাও গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারিক গ্রুপের মধ্যে বসত বাড়ির সীমানা ও জমিজমার রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধসহ আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। এরই জের ধরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী কুচক্রি মহলের মদদে বিমল উরাও তার লোকজন নিয়ে ওই গ্রামে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় কাঠের খুটি পুঁতে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যে কারনে ওই রাস্তা দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিনের ন্যায় স্থানীয় লোকজনের গোপালপুর মাদ্রাসা মোড়সহ স্কুল, মাদ্রাসাগামী, ছাত্রছাত্রী, ভ্যান-রিক্সা, ট্রলি, ভুটভুটিসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে গ্রামের উত্তর প্রান্তের বাসিন্দা আকবর আলী, এমরান আলী, ইউসুফ আলী, আহসান আলী, জেনারুল, আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, তারা প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছে। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়ার কারনে বর্তমানে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে রাস্তায় উঠতে পারছে না। ওই প্রভাবশালী মহলের ভয়ে এক প্রকার নিজ নিজ বাড়িতে তারা অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে।
গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি এভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ফলে গ্রামের সাধারণ লোকজনের জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ওই গ্রামের উত্তর প্রান্তের বাসিন্দাদের সাংসারিক কর্মকাণ্ড চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তায় খুঁটি পুতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী মহলের লোকজন ভুক্তভোগীদের চলাচলে ভয়-ভীতিসহ বাঁধা প্রদান করছে। ভুক্তভোগী ওই পরিবারগুলো তাদের এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
অপর দিকে ওই গ্রামের বিমল উরাওয়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওদের সঙ্গে আমাদের মামলা চলছে। আমাদের সম্পত্তি তারা জবরদখলে রেখেছে। ওই রাস্তা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির উপর আছে। তাই আমরা তা ঘিরে দিয়েছি। আমাদের সমস্যার সমাধান হলে রাস্তাও ছেড়ে দিব।
ইত্তেফাক/নূহু
