রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনেও রাজধানীর গণপরিবহনে ফেরেনি শৃঙ্খলা। যদিও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০১৮ সংসদে পাস হয়েছে, তারপরেও চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রতিযোগিতা যেন থামছেই না। সড়কে মুত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। সর্বশেষ গত রবিবার রাজধানী বাড্ডা লিংক রোডে ড্রিমলাইনার পরিবহনের একটি বাসের চাপায় লাশের মিছিলে যুক্ত হয়েছেন আরেকজন। নিহত যুবক নাসির উদ্দিন টিটু (৩০)।
সড়কে ট্রাফিক আইন বিধি না মেনে ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোয় বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে মনে করছেন যাত্রীরা। মেগাসিটি ঢাকার সড়কে এমন বিশৃঙ্খলার জন্য গণপরিবহনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটরগাড়ি চালানোর আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা বলছেন, গণপরিবহনের ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হলে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য রুট পারমিটের প্রক্রিয়া সংস্কার করা, দক্ষ ও পেশাদার চালক তৈরির পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, টিকিট কাউন্টার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করা ও ট্র্রাফিক আইন মানতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো। এ সব পদক্ষেপ নিলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
আজ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলছেন না চালকরা। যত্রতত্র ও সড়কের মধ্যখানে ইচ্ছেমত যাত্রী তুলছেন বাসের চালক ও হেলপাররা। এছাড়া লেন বিধি না মেনে ও পাল্লা দিয়ে এলোমেলো ভাবে গাড়ি চালানোর ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
রাজধানীর ফার্মগেট, শাহবাগ, মগবাজার ও বাড্ডা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে পুরনো চেহারায় গাড়ি চলছে। প্রতিযোগিতায় লিপ্ত গণপরিবহনের চালকরা। অনেক যাত্রী প্রতিবাদ করলেও কাজের কাজ কিছু হয় না। তাদের মত করেই রাস্তার মাঝখানে যাত্রী তোলা ও বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরা। লেন বিধি না মানা, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো যে ট্রাফিক আইনে অপরাধ সেটা জানেন না অনেক চালকই।
১৯৮৩ সালের মোটরযান আইনের ১৪২ ধারায় বলা আছে, অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালালে ৩০০ টাকা জরিমানা করা হবে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া মোটরযান আইনের ১৬টি ধারায় বিভিন্ন জরিমানার বিধান থাকলেও কার্যত কোন আইন থামাতে পারছে না বেপরোয়া চালকদের।
চালকরা সড়কে বেপরোয়া ভাবে কেন গাড়ি চালায় জানতে চাইলে সু-প্রভাত পরিবহনের চালক জাহিদ হোসাইন বলেন, আসলে কে কার আগে যাত্রী তুলবে, এই ধরনের একটা প্র্রতিযোগিতা আছে। মানুষের জীবনের চেয়ে কী টাকার মূল্য বেশি প্রশ্ন করলে তিনি নীরব থাকেন। পরবর্তীতে আর কোন কথাই বলতে চাননি এই চালক।
রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকা চেম্বারের রিসার্চ ফেলো ইনামুল হাফিজ লতিফি বলেন, শিক্ষার্থীরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আসলে কিভাবে আইন বাস্তবায়ন করতে হয়। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই। যেখানে প্রতিটা নাগিরক দিন শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরবে। জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বলেন, এত সহজে ফিডব্যাক আসবে না। সবেমাত্র আইন পাস হয়েছে। এটার ফিডব্যাক পেতে সময় লাগবে।
ইত্তেফাক/এমআই
