ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ সোমবার দিনব্যাপী সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্টিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা ও দিল্লীতে এর আগে বেশ কয়েকটি বৈঠকের পর এবার বৈঠকের ভেন্যু বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় শহর সিলেটে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার অনুষ্টিত বৈঠকে উঠে আসা বিষয়গুলো সাংবাদিকদের জানানো হয়নি। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার একই স্থানে দুই দেশের বিদ্যুত সচিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠক অনুষ্টানের পর এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (পাবলিক রিলেশন্স) সাইফুল হাসান জানান, সোমবার ভারত- বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের দুজন কর্মকর্তা নেতৃত্ব দেন। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে সিলেটের রোজভিউ হোটেলে অনুষ্টিত বৈঠক চলে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।
এদিকে, স্টিয়ারিং কমিটির আজকের বৈঠকে যোগ দিতে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা সীমান্ত দিয়ে ভারতের বিদ্যুত সচিব অজয় কুমার বালার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সোমবার সকাল ১১টায় সিলেটে এসে পৌঁছান বলে জানান বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা। এছাড়া ভারত থেকে প্রতিনিধি দলের আরও কয়েকজন সদস্য ঢাকা হয়ে সিলেটে এসেছেন।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে বিদ্যুত সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিলেট এসেছেন। সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সরদার আযম মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, বাংলাদেশে সঞ্চালন লাইন স্থাপন, জলবিদ্যুৎসহ বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রের বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক চলছে সিলেটে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ভারতের অরুণাচল থেকে জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিহারে নেওয়া এবং ভারতের ভূখন্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনা-এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিন্ধান্ত হবে।
জানা গেছে, ভারতের অরুণাচল প্রদেশ থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিহারে নিতে চায় তার দেশের সরকার। আর এজন্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে চায় ভারত।
সূত্র মতে এর আগে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে উভয় দেশ সম্মত হলেও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের ব্যয় নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। এর আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যার যার অংশে সেই দেশ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করবে এবং লাইনের ব্যয় নির্বাহ করবে এমন প্রস্তাব দেয় ভারত। কিন্তু বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করে বলে, তাদের এলাকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ তাদের আরেক অঞ্চলে নেবে-সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন এই লাইন নির্মাণে খরচ যোগাবে?
অন্যদিকে ভারতের এই বিদ্যুত লাইন থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিতে চায় বাংলাদেশ। এসব বিষয়া ছাড়াও ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ অর্থাৎ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গতবছর ভারত প্রতিবেশী দেশ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। ওই নীতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশ বিদ্যুৎ বিনিময় করতে চাইলে সেই কেন্দ্রে ভারতের সরকারি বেসরকারি কোম্পানির অংশিদারিত্ব থাকতে হবে। একইভাবে ভারতের কোম্পানিকে সঞ্চালনের দায়িত্ব দিতে হবে। ভারতের এই নীতির কারণে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। এজন্য ভুটানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলেও এর কার্যকরীতা নেই এখর পর্যন্ত।
অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তাতেও ভারতের অংশ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংস্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে আজকের অনুষ্টেয় বৈঠকটি খুই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
ইত্তেফাক/নূহু
