জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার দৈনিক সমকাল ও করতোয়ার সাংবাদিক শাহারুল আলম (৪০) স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কালাই পৌর সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিনি সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। তার মাথায় ৭টি সেলায় দেওয়া হয়েছে। বর্তমান তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ নাম্বার বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী লিটন, কাফিসহ অনেকেই জানান, উপজেলার শাহারুল আলমের কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাওন ফার্মেসিতে ওষুধের দাম নিয়ে কর্মচারীর সঙ্গে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয় কালাই পৌর বাসিন্দা মো. জোব্বার মোল্লার ছেলে জনির (২৬)। এরপর জনি সেখান থেকে চলে যায়। তবে ওই সময় সাংবাদিক শাহারুল সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
কিছুক্ষণ পরে জনি, তার সহযোগী হাসু, মিলন, কফিল, কেরামতসহ আরও অজ্ঞাতদের দলবল নিয়ে ওই দোকানে এসে হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে দ্রুত শাহারুল সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের নিয়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করলে পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে জনি ও মিলন তার মাথায় আঘাত করে। এ সময় জনি ও সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি বাঁচাও বলে চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সন্ত্রাসীদের হামলায় শিকার হওয়া সাংবাদিক শাহারুল আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে স্থানীয় সন্ত্রাসী জনি, তার সহযোগী হাসু, মিলন, কফিল, কেরামত মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করেছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। এই ঘটনার আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
এই বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান বলেন, এই খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল ও উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সাংবাদিক শাহারুলের খোঁজ খবর নিয়েছি। তবে সাংবাদিক শাহারুল আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর জনি ও মিলনসহ তার সহযোগীদের আটক করার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
