বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বরাদ্দ নিয়ে রংপুর জেলা পরিষদের নারী সদস্য পারভীন আক্তারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমকে অবরুদ্ধ করে রাখে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১টার দিকে ছাফিয়া খানম নিজ কার্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীসহ জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্য তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় ছাফিয়া খানম অফিস কক্ষের সামনে প্রায় ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পরে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে অফিস কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়।
বিষয়টি সমাধানের জন্য বেলা ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুর নেতৃত্বে উভয়পক্ষের শ্বাস রুদ্ধতার বৈঠক চলছিল।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শাফিয়া খানমের সঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য ও একই সংগঠনের নেত্রী পারভীন আখতারের হাতাহাতি এবং চুলাচুলির ঘটনা ঘটে। সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটলেও চাপা পড়ে। পরে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা নগরী জুড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ সময় উভয় নেত্রী পরস্পরকে বাজে ভাষায় গালাগাল করেন। দুই নেত্রী এ ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আখতার রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফিয়া খানমের চেম্বারে যান। তিনি এ সময় জেলা পরিষদের অধীন বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের ৩টি প্রকল্প তাকে দেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে প্রথমে দুই নেত্রীর বাদানুবাদ হয়। পরে একে অপরের সঙ্গে চুলোচুলি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আখতার জানান, জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ করে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের কয়েকটি প্রকল্পের বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করতে যাই। এ নিয়ে দুজনে কথা বলার সময় হঠাৎ করে চেয়ারম্যান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। পরে তিনি অ্যাশট্রে দিয়ে আমাকে ঢিল মারেন। এ সময় তিনি আমাকে মারধর করেন ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। আশপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করেন।
তিনি এ ঘটনার জন্য চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো।’
ঘটনার সময় উপস্থিত জেলা পরিষদ সদস্য রমজান আলী জানান, দুই পক্ষকেই আমি শান্ত করার চেষ্টা করি। তবে তাতে সফল হতে পারিনি।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফিয়া খানম বলেন, আমি অফিসে বসে ছিলাম। এ সময় জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আখতার এসে তার নামে ৩টি প্রকল্পের কাগজ ঠিক করে দেওয়ার দাবি জানান। আমি বলি সভা না করে কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। ২৬ সেপ্টেম্বর মাসিক সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কিন্তু সে কোনও কথা না শুনে এখনই কাগজ পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেয়। তার কথা না শোনায় আমাকে বাজে ভাষায় গালাগাল করে। সে আমার গলার স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে ফেলে এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। বাধ্য হয়ে আমি অফিস থেকে বাসায় চলে আসি।
এদিকে সরজমিনে দেখা যায়, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা পরিষদ কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বেলা ১টার দিকে পারভীন আক্তার জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্য, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর বেলা সোয়া ১টার দিকে চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পারভীন আক্তার চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে তার সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তালা লাগানোর ফলে অফিস রুমে ঢুকতে না পেরে দরজার সামনে অবস্থান নেন চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম।
এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগাল দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও হিমশিম খায়। পরে ২টার দিকে জেলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফিসহ উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত কোতয়ালি থানার এসআই ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক চলছে।
ইত্তেফাক/নূহু
