বেনাপোল বন্দরে চতুর্থ দিনের মতো আমদানি-রফতানি বন্ধ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৩৪
বেনাপোলে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দু’দেশের ব্যবসায়ী, বন্দর শ্রমিক ও  প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যৌথ সভা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সম্পন্ন হয়। দু’দেশের ব্যবসায়ী, বন্দর শ্রমিক ও  প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আমদানি রফতানি চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও ভারতের বনগাঁও পৌর সভার মেয়র’র হস্তক্ষেপে তা বাতিল হয়ে যায়।
 
জানা গেছে, ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতি নানান অজুহাতে শনিবার দুপুর থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। এতে বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় পণ্য বোঝাই কয়েক হাজার ট্রাক আটকা পড়েছে। বেনাপোল থেকে কোনও পণ্য চালানও যায়নি ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে। যার অনেকগুলোতে রয়েছে বাংলাদেশি রফতানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল, মাছ, পানসহ বিভিন্ন ধরণের পচনশীল পণ্য।
 
বেনাপোল সি এন্ড এফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কামল উদ্দিন শিমুল জানান, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বনগাও পৌর মেয়রের যোগসাজশে কিছু লোকাল ট্রাক মালিক ও শ্রমিক-নেতারা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন অজুহাতে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে জট সৃষ্টি করে। পরে ট্রাক প্রতি ২ হাজার টাকা করে ডেমারেজ আদায় করে আসছে। ডেমারেজের পুরো টাকা বাংলাদেশের আমদানিকারকদের কাছ থেকে নেয়া হয়।
 
ফলে এক ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে ১৫/২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতো। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৫ থেকে ৬’শ ট্রাক পণ্য আমদানি হয় ভারতে থেকে অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৩’শ ট্রাক পণ্য রফতানি হয় ভারতে। প্রতিদিন বেনাপোল কাস্টম হাউস ২৩ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। বর্তমানে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে কোনও ট্রাকজট না থাকায় ট্রাকগুলো দিনের দিন প্রবেশ করছে। সে কারণে ভারতীয় ট্রাকমালিক ও শ্রমিকরা কোনো ‘ডেমারেজ চার্জ’ পাচ্ছেন না। ফলে পরিকল্পিতভাবে বনগাও পৌর সভার সহায়তায় ক্ষোভে পড়ে তুচ্ছ ঘটনায় আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।
 
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান জানান, ‘বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে, বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।’
 
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে সরকার প্রতি বছর সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এভাবে ঘন ঘন আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে রাজস্ব আদায়’র লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে না।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ