দুই দফা তদন্ত শেষে ঢাকায় ফিরেছে পুলিশ সদর দপ্তরের দলটি

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০১:১০

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় দুই দফা তদন্ত করে ঢাকায় ফিরেছে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দলটি। তদন্ত শেষে পুলিশের সিআইডির একটি তদন্ত দল এ হত্যাকাণ্ডে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অপরদিকে মাদ্রাসার আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান বলেন, নুসরাত হত্যার ঘটনায় তত্কালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পাঁচ সদস্যের তদন্ত দলটি গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফা তদন্ত করে ঢাকায় ফেরে। এরপর অধিকতর তদন্তের জন্য দুই দিন পর ওই কমিটির দুই সদস্য পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে। ২২ এপ্রিল ও ২৩ এপ্রিল দুই দিন তদন্ত করে দলটি ঢাকায় ফেরে। এ দুদিনে তদন্ত দলটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাত জন চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, দুই জন শিক্ষার্থী ও ৪/৫ জন সাংবাদিকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে বলে এ কর্মকর্তা জানান।

অন্যদিকে সিআইডির তদন্ত দলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বলেন, সিআইডি পুলিশের একটি দল সোমবার থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তারা নুসরাত হত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সোনাগাজীতে অবস্থিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে অভিযান শুরু করেছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ মাদ্রাসার একাউন্ট ও বিভিন্ন ব্যক্তির একাউন্ট তদন্ত করছেন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যে সকল তথ্য উঠে এসেছে সেসব বিষয়ে তদন্ত শেষে দলটি ঢাকা সদর দপ্তরে তাদের প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে এ কর্মকর্তা জানান।

ফেনীর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজজামান বলেন, আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করার পর নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনার কাজ করবেন। তবে নুসরাত হত্যার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাজ শেষ না হওয়ায় এখনও রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি কে এম এনামুল করিম প্রশিক্ষণে সিলেটে থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সময় লাগছে বলে তিনি জানান।